কলকাতা: দেনার দায়ে জর্জরিত পশ্চিমবঙ্গ সরকার। তদুপরি ভোটের আগে ভাতা বাড়িয়ে ‘কল্পতরু’ মুখ্যমন্ত্রী। এই আবহে সুপ্রিম কোর্টের ২৫% DA (Dearness Allowance) মেটানোর নির্দেশ আদৌ ফলপ্রসূ হবে কিনা, সেই নিয়ে সন্দিহান পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারী কর্মচারী ও পেশনভোগীরা। ঘটনাচক্রে বৃহস্পতিবার বিধানসভার অন্তর্বর্তী বাজেট পেশের দিনই মহার্ঘ ভাতা মামলার দাবীকে স্বীকৃতি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
রাজ্য সরকারী কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ-এর ২৫% ৩১ মার্চের মধ্যে মেটাতে হবে। তবে অন্তর্বর্তী বাজেটে ভাতা বৃদ্ধির ঢাকঢোল পেটানো হলেও সরকারি কর্মচারীদের ডিএ সংক্রান্ত বিষয়ে কোনও সুস্পষ্ট দিকনির্দেশ মেলেনি। রায় ঘোষণার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়য়ের (Mamata Banerjee) বক্তব্যের পর আরও সিঁদুরে মেঘ দেখছেন রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) গতকাল বলেন, “রায়ের প্রতিলিপি এখনও হাতে পাইনি। আমাদের কোনও প্রতিনিধি সেখানে ছিল না। পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হয়েছে। মে মাস পর্যন্ত তো সময় আছে!”
আশঙ্কা যেন পিছু ছাড়ছে না
তবে হকের বকেয়া ডিএ শেষ অবধি মিলবে কিনা তা নিয়ে স্বস্তি মিলছে না রাজ্য সরকারী কর্মচারীদের একাংশের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারী কর্মচারীর বক্তব্য, “বাজেটে আমাদের বকেয়া ভাতার উল্লেখ থাকবেই না বা থাকলেও নামমাত্র থাকবে তা জানাই ছিল। ভাতা বাড়ানোর দৌড়ে, রাজ্য সরকারের কাছে সরকারী কর্মচারীরা ব্রাত্য”।
অন্য এক সরকারী কর্মচারীর আশঙ্কা, “বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance)-এর পরিমাণ ৪১ হাজার কোটি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর রাজ্য সরকারকে প্রায় ১০ হাজার ৪০০ কোটি টাকা জোগাড় করতে হবে। এদিকে মুখ্যমন্ত্রী ভাতা বাড়াচ্ছেন। আর ডিএ বাড়ানোর সময় তাঁর কোষাগারে টান পড়ছে! হকের মহার্ঘ ভাতা কি আদৌ পাবো?” অন্যদিকে, প্রায় সাড়ে চার মাস পর ডিএ মামলার দাবীকে সুপ্রিম কোর্ট স্বীকৃতি জানানোয় কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছেন সরকারী কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের একাংশ। ২৫% নয়, অন্তত ৪% শতাংশ ডিএ-এর আশাতেই দিন গুনছেন তাঁরা।
মহার্ঘ ভাতা মামলা
উল্লেখ্য, রাজ্য সরকার এতদিন ধরে রাজ্য সরকারী কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের মহার্ঘ ভাতার দাবী খারিজ করে আসছিল। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চে ডিএ (Dearness Allowance) বা মহার্ঘ ভাতা পাওয়াকে আইনি বলবৎযোগ্য অধিকার বলে উল্লেখ করে। প্রায় দু-দশক ধরে ডিএ-এর দাবীতে আইনি লড়াই লড়ছেন রাজ্য সরকারী কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা।
আগে সরকারের তরফেই সুপ্রিম করতে জানানো হয়, মোট বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance)-এর পরিমাণ প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা। তার ২৫ শতাংশ অর্থাৎ ১০ হাজার ৪০০ কোটি টাকা রাজ্য সরকারকে জোগাড় করতে হবে। এই পরিমাণ অর্থ দিতে রাজ্যের কোষাগারে টান পড়বে বলে আগেই জানিয়েছিল রাজ্য সরকার।
উপায় বলতে হয় ধার নয়ত অন্যান্য খাতের বরাদ্দে কাটছাঁট। কিন্তু ভাতা বাড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার যে ফের দেনার পথেই হাঁটছে তা কার্যত স্পষ্ট। অর্থ দফতরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য পৃথকভাবে ৪% ডিএ-এর কথা ঘোষণা করেছেন। সেইসঙ্গে জানিয়েছেন সপ্তম বেতন কমিশনের প্রস্তাবও।


