Aaj India Desk, পুরুলিয়া : নিবার্চনের দিনক্ষণ ঘোষণা হতেই রাজ্য জুড়ে অশান্ত বহু এলাকা। এবার সেই পরিস্থিতির মধ্যেই পুরুলিয়ার (Purulia) ঝালদা ১ ব্লকের পুষ্টি গ্রাম পঞ্চায়েতের ভূসুড়ি গ্রামে মৌলিক পরিকাঠামোর অভাবকে কেন্দ্র করে ভোট বয়কটের ডাক দিলেন গ্রামবাসীরা।
অভিযোগ সত্ত্বেও মেলেনি সমাধান
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরুলিয়ার (Purulia) বাঘমুন্ডি বিধানসভা এলাকার অন্তর্গত এই গ্রামে এখনও কাঁচা রাস্তা রয়েছে। পিচ ঢালাই তো দূরের কথা, রাস্তা সংস্কারের কাজও হয়নি। গ্রীষ্মকালে পানীয় জলের তীব্র সংকট দেখা দেয়। কুয়োর জল শুকিয়ে যায়, আর নলকূপ থেকেও পর্যাপ্ত জল মেলে না বলে অভিযোগ। গ্রামবাসীদের দাবি, ২০২২ সাল থেকে পুষ্টি গ্রাম পঞ্চায়েত ও ঝালদা ১ ব্লক প্রশাসনকে বারবার বিষয়টি জানানো হয়েছে। এমনকি পঞ্চায়েত কার্যালয়ে ধর্ণাও দেওয়া হয়। তবু সমস্যার সমাধান হয়নি। শেষবার ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর ব্লক প্রশাসনকে জানানো হলেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি।
সরাসরি ভোট বয়কটের ডাক
এরপরই গ্রামবাসীরা যৌথভাবে ভোট বয়কটের সিদ্ধান্ত নেন। গ্রামের দেওয়ালে বাংলা ও ইংরেজিতে লেখা হয়েছে, “উন্নয়ন নেই, ভোট নয়”,“যেখানে নাই উন্নয়ন, সেখানে নাই ভোটগ্রহণ। ভোট আসে ভোট যায়, আমাদের বঞ্চনা থেকেই যায়, তাই এবার ভোট নাই”, “No development, no vote” , “no road, no vote” , “no bridge, no vote।” প্রতিটি দেওয়াল লিখনের নিচে লেখা রয়েছে ভূসুড়ি গ্রামবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দা গোপাল সিং, মালয় সিং মুড়া ও মাংলি সিং জানান, “দীর্ঘদিন ধরে জানিয়েও কোনও কাজ হয়নি। তাই এবার ভোট বয়কটের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি।” Aaj India এক স্থানীয় বাসিন্দার সাথে সরাসরি যোগাযোগ করায় তিনি বলেন, ”প্রতিবারই শুধু আশ্বাস পেয়েছি, কাজ পাইনি। এখন দেওয়ালে লিখে বলতে হচ্ছে যে উন্নয়ন না হলে ভোটও হবে না। আমরা ভোট দিতে আপত্তি করি না, কিন্তু আগে মানুষ হিসেবে বাঁচার ন্যূনতম ব্যবস্থাটা তো চাই।”
শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। পুরুলিয়ার (Purulia) বাঘমুন্ডির তৃণমূল প্রার্থী ও বিদায়ী বিধায়ক সুশান্ত মাহাতো বলেন, “গ্রামের যে রাস্তার দাবি করা হচ্ছে তা রেলের জমিতে পড়ে। প্রশাসন রেলকে জানালেও সাড়া মেলেনি।” অন্যদিকে, বিজেপি প্রার্থী রাহিদাস কুমার বলেন, “এটা দুঃখজনক। রাজ্য সরকারের উদাসীনতার কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।”
পরিস্থিতি স্পষ্ট করে দিচ্ছে, ভূসুড়ি গ্রামের বাসিন্দাদের ক্ষোভ শুধুমাত্র অবকাঠামোর অভাব নয়, দীর্ঘদিনের অবহেলার ফল। ভোট বয়কটের এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনের কাছে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। মৌলিক পরিষেবা নিশ্চিত না হলে গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণও প্রশ্নের মুখে পড়ে। এখন প্রশাসনের পদক্ষেপে সমস্যার দ্রুত সমাধান হয়, নাকি এই বয়কট বৃহত্তর অসন্তোষের প্রতীক হয়ে ওঠে সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


