কলকাতা: ২০২৬ শুরু হতেই পশ্চিমবঙ্গে ভোটের (West Bengal Assembly Election) উত্তাপ উত্তরোত্তর বাড়ছে। বেকারত্ব, নিরাপত্তা ও দুর্নীতি তৃণমূলের অস্বস্তি বাড়ালেও মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) জনপ্রিয়তা এখনও শক্ত অবস্থানে রয়েছে, বলছে সমীক্ষা। একটি নতুন সমীক্ষায় উঠে এসেছে, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতীয় জনতা পার্টির চেয়ে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
সমীক্ষা অনুযায়ী, ৩৯.৬ শতাংশ ভোটার ক্ষমতাসীন সরকারের পক্ষে ভোট দেবেন বলে মনে করা হচ্ছে, যেখানে ৩০.৫ শতাংশ ভোটার বিজেপিকে ভোট দেবেন বলে জানিয়েছেন। ভোট ভাইবের (Vote Vibe) সমীক্ষায় দেখা গেছে, BJP প্রধান সমর্থন পাচ্ছে SC (৫০%), ST (৩৮%) এবং OBC (৪৪%) ভোটারদের মধ্যে, যেখানে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) মুসলিম ভোটারদের মধ্যে ৫৪% সমর্থন বজায় রেখেছে এবং হিন্দু সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও নেতৃত্ব ধরে রেখেছে।
বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণ:
- যুবক ভোটার (১৮–২৪ বছর): BJP এগিয়ে।
- বয়স্ক ও সিনিয়র নাগরিক ভোটার: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) শক্ত অবস্থানে; এখানে তার প্রভাব ২০ শতাংশেরও বেশি।
সরকারের কার্যকারিতা:
- ৩৮.৩% ভোটার TMC সরকারের কার্যকারিতা “চমৎকার” বা “ভালো” হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।
- প্রায় সমানভাবে ৪০.৬% ভোটার এটিকে “খারাপ” বা “অত্যন্ত খারাপ” হিসেবে দেখেছেন।
সম্প্রদায়ভিত্তিক প্রভাব:
- মুসলিম ভোটারদের অর্ধেকের বেশি তৃণমূল সরকারের সঙ্গে সন্তুষ্ট।
- SC ও ST ভোটারদের অর্ধেকের বেশি অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন, যা BJP–এর জন্য সুযোগও সৃষ্টি করছে, তবে ঝুঁকিও তৈরি করছে।
উল্লেখজগ্যভাবে উঠে এসেছে হুমায়ূন কবিরের নাম:
ঘাসফুল শিবির থেকে বহিষ্কৃত হয়ে নতুন দল জনতা উন্নয়ন পার্টি গড়েছেন হুমায়ূন কবির (Humayun Kabir)। নাম ঘোষণার দিন জেইউপি-কে ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ দল বলে ঘোষণা করলেও হুমায়ূন তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোট কেন্দ্রীভূত করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ভোট ভাইব সার্ভেতেও গবেষকদের নজরে উল্লেখযোগ্যভাবে উঠে এসেছেন হুমায়ূন কবির। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে যিনি ‘ওয়াইল্ডকার্ড’ হিসেবে ভোটে প্রভাব ফেলতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। প্রায় ২৬% ভোটার মনে করছেন, তিনি নির্দিষ্ট এলাকার ভোটে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
বেকারত্বকে সবচেয়ে বড় সমস্যা মনে করছেন ভোটাররা
ভোটারদের মধ্যে ৩৩.৮% বেকারত্বকে সবচেয়ে বড় সমস্যা মনে করছেন, এরপর আইন-শৃঙ্খলা ও নারীর নিরাপত্তা (১৯.১%) এবং দুর্নীতি (১৮.৩%)। উল্লেখযোগ্যভাবে, সম্প্রদায়ভিত্তিক বিভাজন মাত্র ৩% ভোটারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে। সমীক্ষায় আরও দেখা গেছে, ২৯.৩% ভোটার বলেন যে তাদের ভোট নির্ধারণ হবে শুধুমাত্র “মমতার সরকারের করা কাজের ভিত্তিতে”, নেতৃত্ব বা রাজনৈতিক মতাদর্শ নয়।
এমএলএ স্তরে প্রতিক্রিয়া:
- বর্তমান বিধায়ককে পুনঃনির্বাচন করতে “খুব সম্ভব” মনে করছেন মাত্র ২৬.৯% ভোটার।
- প্রায় অর্ধেক ভোটার চান অন্য প্রার্থী অথবা প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রার্থীকে ভোট দেবেন। এটি স্পষ্ট করে যে স্থানীয় স্তরে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধেও শক্ত প্রতিক্রিয়া রয়েছে।
BJP–এর চ্যালেঞ্জ:
- ভোটারদের চোখে বিজেপি সমস্যায় রয়েছে দলীয় ফ্যাকশন ও ভেতরের দুঃসম্পর্ক (২০%)।
- এরপর আসে অভিযোগ যে বিজেপি “বঙ্গের সংস্কৃতিকে বোঝে না” (১৬.২%)।
- এছাড়াও রাজ্যে কোনও প্রভাবশালী নেতা অনুপস্থিতি (১৪.৫%) ভোটারদের মনে চ্যালেঞ্জ হিসেবে ধরা হয়েছে।
রাজ্যে ভোট এপ্রিল-মে মাসে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভোটের চূড়ান্ত ফলাফলে বয়স ও সম্প্রদায়ভিত্তিক ভোটের পরিবর্তন সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।


