22 C
Kolkata
Tuesday, March 24, 2026
spot_img

ভোটের মুখে তৃণমূলে ফাটল? উত্তরপাড়ার কর্মসূচি ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক !

Aaj India Desk, হুগলি : ২০২৬ এর আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের পাখির চোখ হুগলির উত্তরপাড়া। রবিবার সেই উত্তরপাড়ার বালাকা মাঠে তৃণমূল (Trinamool Congress) প্রার্থী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে আয়োজিত সভাকে ঘিরে দলীয় অন্দরে অসন্তোষের সুর উঠল।

দলের অন্দরে বাড়ছে চাপা ক্ষোভ

রবিবার উত্তরপাড়া বিধানসভা এলাকার কর্মীদের নিয়ে এই সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে জেলা নেতৃত্বের পাশাপাশি শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু সেই কর্মসূচিতে ব্রাত্য দলের অন্যান্য কর্মীরা। দলের কর্মীদের বক্তব্য, কর্মসূচির সভামঞ্চে উপস্থিত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতা-কর্মীর নাম ঘোষণা করা হয়নি এবং তাঁদের বক্তব্য রাখার সুযোগও দেওয়া হয়নি। এছাড়াও অভিযোগ ওঠে, মিছিলে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে আসা হলেও তাঁদের মধ্যে অনেককেই মঞ্চে ডাকা হয়নি। ফলে সংগঠনের অভ্যন্তরে সমন্বয়ের অভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

বঞ্চনার অভিযোগে সরব কাউন্সিলর

উত্তরপাড়া পৌরসভার তৃণমূল (Trinamool Congress) কাউন্সিলর তাপস মুখোপাধ্যায়ের অভিযোগ অনুযায়ী, যুব তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সম্পাদক শুভদীপ মুখোপাধ্যায় সভায় উপস্থিত থাকলেও তাঁকে মঞ্চে ডাকা হয়নি বা তাঁর নাম উল্লেখ করা হয়নি। একইভাবে, তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতিকেও মঞ্চে আহ্বান জানানো হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। অথচ অন্যদিকে কোন্নগর-উত্তরপাড়া শহর সভাপতি এবং জেলা যুব সভাপতিকে মঞ্চে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়। এতে দলের একাংশের মধ্যে বঞ্চনার অভিযোগ সামনে আসে।

তাপস মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার বার্তা দেওয়া হলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। কাউন্সিলরদের নাম না বলা এক বিষয়, কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত পদাধিকারীদের নামও উল্লেখ না করা গ্রহণযোগ্য নয়।” তিনি আরও বলেন, “যাঁদের মঞ্চে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের পাশাপাশি অন্যান্য নেতৃত্বের নামও উল্লেখ করা উচিত ছিল। বিশেষ করে যুব তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শুভদীপ মুখোপাধ্যায়ের নাম না বলা ঠিক হয়নি।”

ভোটের আগেই দলে ফাটল ? 

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তরপাড়ায় তৃণমূলের (Trinamool Congress) অন্দরে ক্ষোভ বাড়ছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। যদিও দলীয় নেতৃত্বের তরফে এই বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তৃণমূল কংগ্রেসের মতো বড় রাজনৈতিক সংগঠনে অভ্যন্তরীণ মতভেদ বা ক্ষোভ নতুন কিছু নয়। তবে এই ধরনের অসন্তোষ যদি ভোটের প্রাক্কালে বারবার প্রকাশ্যে আসে এবং সংগঠনের ভেতরে সমন্বয়ের অভাব এভাবেই বাড়তে থাকে, তা হলে তা অবশ্যই রাজনৈতিকভাবে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচনের আগে নেতৃত্ব ও কর্মীদের মধ্যে দূরত্ব বাড়লে সংগঠনের কার্যকারিতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তৃনমূল কংগ্রেসের ধারাবাহিক অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব অব্যাহত থাকলে তা বিরোধীদের জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে। ফলে এই পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবিলা করা হবে তার উপরই ভবিষ্যতে দলের রাজনৈতিক অবস্থান নির্ভরশীল।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন