Aaj India Desk, কলকাতা: ভোটার তালিকার ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ থাকা নামগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ নিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় থাকা অমীমাংসিত ভোটারদের নথি যাচাই করতে রাজ্যের চার জেলায় ১৩৮ জন বিচারিক আধিকারিককে (Judicial officers) পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চার জেলায় বিচারিক আধিকারিক
হাইকোর্টের অ্যাপিলেট সাইড থেকে জারি হওয়া একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ জুডিশিয়াল সার্ভিসের (WBJS) ১৩৮ জন আধিকারিককে তাঁদের বর্তমান দায়িত্ব থেকে সরিয়ে কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, মালদা এবং মুর্শিদাবাদ জেলায় নিয়োগ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে ভোটার তালিকার SIR সংক্রান্ত বকেয়া কাজ খতিয়ে দেখাই তাঁদের মূল দায়িত্ব।
১০ মার্চের মধ্যে জেলায় যোগ
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নির্বাচিত বিচারিক আধিকারিকদের (judicial officers) ৭ মার্চের মধ্যে বর্তমান দপ্তরের কাজ শেষ করে ছুটিতে যেতে হবে। এরপর তাঁদের ১০ মার্চের মধ্যে নির্দিষ্ট জেলায় দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে। পরিস্থিতির বিশেষ গুরুত্ব বিবেচনা করে ৭ মার্চ থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের স্টেশন লিভ মঞ্জুর করা হয়েছে। পাশাপাশি এই দায়িত্ব পালনের জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী যাতায়াত বাবদ ও দৈনিক ভাতা দেওয়া হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এখনও বিবেচনাধীন ৬০ লক্ষের বেশি
প্রসঙ্গত, বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা থেকে ৬৩ লক্ষ নাম বাদ দিয়েছে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এদের মধ্যে কেউ মৃত, কেউ স্থানান্তরিত, কেউ অনুপস্থিত, আবার কারও নাম অন্যত্র নথিভুক্ত রয়েছে। এছাড়া এখনও ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের নাম ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ বা বিবেচনাধীন রয়েছে। এই ভোটারদের নথি যাচাইয়ের কাজেই বিচারিক আধিকারিকদের নিযুক্ত করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত প্রায় ৭.৫ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি হয়েছে, ফলে এখনও বিপুল সংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায়।
সবচেয়ে বেশি ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ ভোটার
প্রথম পর্যায়ের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর দেখা গিয়েছে, রাজ্যের মধ্যে মুর্শিদাবাদ ও মালদা জেলায় ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ ভোটারের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। মালদা জেলায় মোট ভোটারের সংখ্যা ২৯ লক্ষ ৮৬ হাজার ২০৩। এর মধ্যে ৮ লক্ষ ২৮ হাজার ৮০ জনের নাম বিবেচনাধীন তালিকায় রয়েছে। বেছে বেছে সংখ্যালঘু এলাকাতেই এই তালিকার সদস্য সংখ্যা বেশি তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।
বাইরে থেকে বিচারক আনার ভাবনা
এই পরিস্থিতিতে নিষ্পত্তির গতি বাড়াতে নির্বাচন কমিশন অতিরিক্ত বিচারিক আধিকারিক (judicial officers) নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রয়োজন হলে বিহার ও ঝাড়খণ্ড থেকে প্রায় ২০০ জন বিচারক আনা হবে। তবে এত বিপুল সংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তি করতে ঠিক কতদিন সময় লাগবে, বা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করা যাবে কি না তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও সময়সূচি জানানো হয়নি।


