Aaj India Desk, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের মনোনয়ন (Nomination) প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই একাধিক বিশৃঙ্খলার ঘটনা উঠে এসেছে। সোমবার ফের মনোনয়ন জমা দেওয়াকে ঘিরে একাধিক জায়গায় উত্তেজনা ছড়ায়।
তৃনমূলকর্মীদের ‘মারে’র অভিযোগ
হাওড়া জেলা শাসকের দফতরের সামনে সোমবার মনোনয়ন (Nomination) জমা দেওয়ার সময় বাম ও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। তৃণমূলের অভিযোগ, বাম কর্মীরা তাদের সমর্থকদের হেনস্তা করে এবং মারে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বাম সমর্থকদের মিছিল পুলিশ আটকে দিলে সেখানেই স্লোগানকে কেন্দ্র করে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।
তৃণমূল সমর্থক পূর্ণিমা আইচের অভিযোগ, “আমাদের চোর বলে স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল। প্রতিবাদ করতে গেলে আমাদের ওপর হামলা হয়।” একই সুরে অভিযোগ করেন পঞ্চায়েত সদস্য শেখ আবদুল সালামও।
আলিপুরে বিজেপির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ
অন্যদিকে আলিপুর সার্ভে বিল্ডিং চত্বরে বিজেপি প্রার্থী পাপিয়া অধিকারীর মনোনয়ন (Nomination) জমা দেওয়া ঘিরে উত্তেজনা দেখা দেয়। বিজেপির অভিযোগ, পুলিশ তাদের মিছিল প্রায় এক ঘণ্টা ধরে হাজরা মোড়ে আটকে রাখে।
পাপিয়া অধিকারীর দাবি, “আমাদের মনোনয়ন জমা দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। অন্য দলগুলো সুযোগ পেলেও আমাদের আটকে রাখা হয়।” বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের বাগবিতণ্ডাও হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার প্রচেষ্টায় পুলিশ
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তার কারণে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছিল এবং কাউকে মনোনয়ন জমা দিতে বাধা দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে হাওড়া সিটি পুলিশও জানিয়েছে, মনোনয়ন প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন হয়েছে এবং কেন্দ্রের ভিতরে পাঁচজনের বেশি প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
ভবানীপুরের পর সতর্ক প্রশাসন
উল্লেখ্য, এর আগে ভবানীপুরে মনোনয়ন ঘিরে তৈরি হয়েছিল বড়সড় বিতর্ক। সেখানে শুভেন্দু অধিকারীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। অভিযোগ উঠেছিল, তাঁর মনোনয়ন ঘিরে ব্যাপক ভিড় ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে এবং রাজনৈতিক সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। ওই ঘটনার পর প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং পরবর্তীতে চার পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়।
সেই ঘটনার পর থেকেই নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসন আরও সতর্ক অবস্থান নেয়, যার প্রভাব আলিপুরসহ অন্যান্য মনোনয়ন কেন্দ্রগুলিতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থায় স্পষ্টভাবে দেখা যায়। তবুও সোমবার ছড়িয়ে ছিটিয়ে উত্তেজনার ছবি সামনে আসে। দিনভর শহর থেকে জেলা, বিভিন্ন জায়গায় মনোনয়ন ঘিরে এই টানাপোড়েন রাজ্যের নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।


