কলকাতা: ভোটের আগে খাস কলকাতায় শনিবার যেভাবে উত্তেজনা (TMC-BJP clash) ছড়াল তাতে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন বিশ্লেষক মহল। শনিবার নরেন্দ্র মোদীর ব্রিগেড সভার আগে গিরীশ পার্কে তৃণমূল-বিজেপি সংঘাতের ঘটনা ভোটমুখী রাজ্যে শাসক-বিরোধী চাপানউতোর উসকে দিয়েছে। জানা গিয়েছে, ঘটনায় রাজ্যের মন্ত্রী তথা শ্যামপুকুরের তৃণমূল বিধায়িকা শশী পাঁজার (Shashi Panja) বিরুদ্ধে গিরীশ পার্ক থাকায় অভিযোগ দায়ের করেছে বিজেপি।
অন্যদিকে, তৃণমূলের তরফেও বিজেপির বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, গতকাল চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ জুড়ে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষের ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে ইতিমধ্যেই ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার গিরীশ পার্কের কাছে চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউতে দফায় দফায় শাসক-বিরোধী কর্মী সমর্থকদের সংঘর্ষে (TMC-BJP clash) আহত হন বোউবাজার থানার ওসি বাপ্পাদিত্য নস্কর সহ আট পুলিশকর্মী।
আক্রান্ত হয়েছেন বলে দাবী করেন মন্ত্রী শশী পাঁজাও (Shashi Panja)। জানা গিয়েছে, ভোটের আগে এই ঘটনায় শনিবার বিকেলেই রাজ্য নির্বাচন কমিশন গোটা বিষয়টি নিয়ে কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকারের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে। কমিশনের প্রশ্ন, শহরে যখন কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন ছিল, তখন পরিস্থিতি সামাল দিতে তাদের রাস্তায় নামানো হল না কেন?
শাসক-বিরোধী তরজা
এই ঘটনার ঘন্টাখানেকের মধ্যেই ব্রিগেডের মঞ্চে বক্তৃতা দেন নরেন্দ্র মোদী। ভাষণের শুরুতেই বিজেপি কর্মীদের ব্রিগেডে আসতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। অন্যদিকে, ব্রিগেডের সমাবেশ শেষ হতেই গিরীশ পার্কের ঘটনায় (TMC-BJP clash) আহত কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে দেখা করতে হাসপাতালে যান কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। জানা গিয়েছে, আহতদের তালিকায় রয়েছেন বিজেপির উত্তর কলকাতা জেলা সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ। সুকান্ত মজুমদার এক্সে হুঁশিয়ারি দেন, হামলাকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে। সঠিক সময়ে উচিৎ জবাব দেওয়া হবে বলেন তিনি।
অন্যদিকে, মোদীর ব্রিগেড সভা শেষ হতেই সাংবাদিক বৈঠকে ক্ষোভ উগড়ে দেন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা (Shashi Panja)। তিনি বলেন, “এটা ব্রিগেড নয়, বি-গ্রেড র্যালি! খুন করে, হিংসা করে বাংলা দখল করবেন?” উত্তরপ্রদেশ, বিহার থেকে বিজেপির ভাড়া কড়া গুন্ডারা ব্রিগেডের সভার আগে অশান্তি করেছে বলেও অভিযোগ তোলেন শশী পাঁজা।


