Aaj India Desk, কলকাতা : স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) আজ থেকে চাকরির সুপারিশপত্র বিতরণ শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত মেধাতালিকা এবং ওয়েটিং লিস্ট মিলিয়ে প্রায় ১৮ হাজার প্রার্থীর নামের তালিকা প্রকাশ করেছে SSC।
১১তম ও ১২তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে অংশভুক্ত প্রার্থীদের হাতে সুপারিশপত্র তুলে দেওয়া হচ্ছে। যারা আগের অ্যাপটিচুড পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ছিলেন, তাদের পুনরায় সুপারিশপত্র দেওয়া হচ্ছে। চাকরি হারানো দীর্ঘমেয়াদী শিক্ষকরা এবং নতুন চাকরিপ্রার্থীরা এই প্রক্রিয়ায় উপস্থিত হয়েছেন।
SSC সূত্রে জানা গেছে, ১১তম ও ১২তম শ্রেণির জন্য মোট ১২,৫০০টি শূন্যপদের ভিত্তিতে সুপারিশপত্র দেওয়া হবে। সুপারিশপত্র পাওয়ার পর বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন নিয়োগপত্র জারি করবে। এরপর ৯ম ও ১০ম শ্রেণির শিক্ষকদের নিয়োগের জন্য যাচাই ও সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
গত বছর দুর্নীতির কারণে বাতিল হওয়া ২৬ হাজার চাকরির মধ্যে বহু শিক্ষক ৭–৮ বছর ধরে দায়িত্বে থাকার পরও আবার পরীক্ষা দিতে বাধ্য হন। তারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আজ SSC অফিসের সামনে সুপারিশপত্র পাওয়ার জন্য উপস্থিত হয়েছেন। আজ প্রথম দফায় ৮০ জন চাকরিপ্রার্থীকে সুপারিশপত্র প্রদান করা হচ্ছে।
নতুন চাকরিপ্রার্থীরা প্রায় ১০ বছর ধরে প্রথম চাকরির অপেক্ষায় ছিলেন। আজ সুপারিশপত্র হাতে পেয়ে তাঁরা আনন্দে মেতে উঠেছেন। তবে যাঁরা দীর্ঘদিন চাকরিতে ছিলেন এবং চাকরি হারিয়েছেন, তাঁরা চোখে অশ্রু নিয়ে এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন। চাকরি হারানোর কারণ হিসেবে দুর্নীতি এবং পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার চাপ তাদের মানসিক ও সামাজিক কষ্টের এক নতুন অধ্যায় তৈরি করেছে।
চাকরিপ্রার্থী কৃষ্ণমৃত্তিকা নাথ বলেন, “এমন ঘটনা যেন আমার শত্রুর সাথেও না ঘটে। আমরা অনেক পরিশ্রম, সততা ও ধৈর্যের পর এই চাকরি পেয়েছি। তবে যে অসম্মান ও সামাজিক অপমান আমাদের সহ্য করতে হয়েছে, তা কখনো ভুলতে পারবো না। আমরা কোনো অপরাধ করি নি, তবু আমাদের চাকরি হারাতে হয়েছিল।”
দীর্ঘ সময় ধরে এসএসসির নিয়োগ দুর্নীতির জেরে রাজ্যের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছিল। বিধানসভা ভোটের আগে এই নিয়োগে গতি এনে রাজ্য সরকার কর্মসংস্থান বিষয়ে সচেতনতার বার্তা দিচ্ছেন কিনা তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।


