স্নেহা পাল, মালদা: নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে গিয়ে নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল পশ্চিমবঙ্গের মালদা। সোমবার SIR শুনানিতে (SIR Hearing ) হাজির হয়ে দাদুর কবরের মাটি ব্যাগে করে নিয়ে এলেন এক যুবক। ঘটনাটি ঘটেছে মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর ব্লকের SIR শুনানিকেন্দ্রে।
নথি জমা দেওয়ার পরও শুনানির ডাক
হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লকের বাসিন্দা সালেক নামের ওই যুবকের পুরো পরিবার সম্প্রতি SIR শুনানির নোটিস পান। ভোটার কার্ড, আধার কার্ড সহ একাধিক পরিচয়পত্র ও নাগরিকত্ব সংক্রান্ত নথি জমা দেওয়ার পরেও তাঁর পরিবারের সকল সদস্যকে পুনরায় শুনানিতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সালেকের দাবি, তাঁর পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই এই অঞ্চলের স্থায়ী বাসিন্দা। পরিবারের পূর্বপুরুষরাও এখানেই বসবাস করতেন। তবুও নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তিনি মানসিক চাপে রয়েছেন। সেই ক্ষোভ থেকেই প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে তিনি দাদুর কবরের মাটি সংগ্রহ করে তা সঙ্গে নিয়ে SIR শুনানিকেন্দ্রে হাজির হন।
নাগরিকত্ব যাচাই ঘিরে বাড়ছে আতঙ্ক
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, নথি থাকা সত্ত্বেও সেখানের বাসিন্দাদের বারবার শুনানির নোটিস পাঠানোয় সাধারণ মানুষের মধ্যে যথেষ্ট বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলা মালদায় নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয় অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় সেখানে এই বিষয়ে প্রথম থেকেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এই ঘটনায় SIR প্রক্রিয়া ও নাগরিকত্ব যাচাইয়ের পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও এই ঘটনার বিষয়ে ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনও মন্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনাটি নাগরিকত্ব যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তির একটি স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি। প্রয়োজনীয় নথি থাকা সত্ত্বেও বারবার শুনানির নোটিস, প্রশাসনিক জটিলতা ও অনিশ্চয়তা অনেককেই মানসিক চাপের মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতি নাগরিকদের মধ্যে আতঙ্ক ও অসহায়তা তৈরি করছে, যা কোনও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রেই কাম্য নয়। স্বচ্ছতা, সংবেদনশীলতা এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ছাড়া এই ধরনের যাচাই প্রক্রিয়া যে সাধারণ মানুষের কাছে হয়রানির প্রতীক হয়ে উঠতে পারে, এই ঘটনাই তার বাস্তব উদাহরণ।


