Aaj India Desk, কলকাতা : বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। শনিবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠকে অমিত শাহ রাজ্য সরকার বিরোধী ‘চার্জশিট’ (Chargesheet) প্রকাশ করতে চলেছেন বলে জানা গেছে। তবে এর পাল্টা আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে তৃনমূল কংগ্রেস। পাশাপাশি প্রশাসনিক রদবদল এবং রাজ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুললেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘চার্জশিট’-এর জবাবে তৃণমূলও আলাদা করে একটি ‘পাল্টা চার্জশিট’ (Chargesheet) প্রকাশ করবে, যেখানে কেন্দ্র ও BJP এর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে ধরা হবে। এতে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ, কেন্দ্রীয় সংস্থার ভূমিকা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
‘বুলডোজার মডেল’ নিয়ে সরব অভিষেক
এই প্রেক্ষাপটে শনিবার নিজের এক্স (X) হ্যান্ডেলে অভিষেক প্রশাসনিক রদবদল এবং রাজ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে সরব হয়েছেন। ১৫ মার্চ নির্বাচনের ঘোষণা হওয়ার পরপরই রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় বদলি করা হয়। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ (ডিজিপি), কলকাতা পুলিশ কমিশনার থেকে শুরু করে কলকাতা পুরসভার কমিশনার জাতীয় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল হয়। তাঁর মতে, এই প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের পর রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় অশান্তির পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। দোকান ভাঙচুর, ধর্মের নামে উত্তেজনা ছড়ানো এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির মতো ঘটনা সামনে আসছে বলে দাবি করেন তিনি। অভিষেকের বক্তব্য, বাংলায় ‘বুলডোজার মডেল’ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, যা রাজ্যের সংস্কৃতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য “বাংলা বাইরে থেকে আমদানি করা ঘৃণা ও হিংসার রাজনীতি চায় না”। এই প্রেক্ষাপটে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই অস্থির পরিস্থিতি থেকে কে লাভবান হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষই বা কেন তার মূল্য দিচ্ছে।
কী থাকছে বিজেপির অভিযোগপত্রে ?
অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, আইনশৃঙ্খলা এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে ধরার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। ‘চার্জশিট’ (Chargesheet) প্রকাশের মাধ্যমে সেই অভিযোগগুলো সংগঠিতভাবে সামনে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে এই ‘চার্জশিট বনাম পাল্টা চার্জশিট’ লড়াই মূলত জনমত প্রভাবিত করার কৌশল। দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থান জোরদার করতে অভিযোগের পাল্টা অভিযোগ তুলে ধরছে। নির্বাচনের আগে এই সংঘাত কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার।


