Aaj India Desk, হুগলি: ভোটের মুখে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে ভাঙড়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। আর এই উত্তেজনার কেন্দ্রে এখন একটাই নাম – আরাবুল ইসলাম (Arabul Islam)। তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে আইএসএফ (Indian Secular Front)-এ যোগ দেওয়ার পর থেকেই তাঁর অবস্থান ও ভাষা ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
হুগলির ফুরফুরা শরীফে আইএসএফ(Indian Secular Front)-এর রাজ্য পার্টি অফিসে আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল ছেড়ে আইএসএফে যোগ দেন আরাবুল ইসলাম (Arabul Islam)। এরপর ভাঙড়ে ফিরেই শক্তি প্রদর্শনে নামেন তিনি। পোলেরহাট সবজি বাজার থেকে পোলেরহাট গরুহাটা পর্যন্ত কয়েক হাজার সমর্থক নিয়ে মিছিল করেন, যা ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়।
মিছিলের শেষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আরাবুল ইসলামের (Arabul Islam) সুর ছিল স্পষ্টভাবে আক্রমণাত্মক। অভিযোগ, আইএসএফে যোগ দেওয়ার পরই তিনি সরাসরি পুলিশ-প্রশাসনকে হুমকি দিয়ে বলেন – ভাঙড়ে আইএসএফ কর্মীদের বিরুদ্ধে “মিথ্যা মামলা” দায়ের হলে থানা অচল করে দেওয়া হবে, এমনকি কোনও পুলিশ অফিসারকেও থানা থেকে বের হতে দেওয়া হবে না।
এই মন্তব্য ঘিরে প্রশ্ন উঠছে – একজন রাজনৈতিক নেতার মুখে এমন হুঁশিয়ারি কি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ইঙ্গিত নয়? বিরোধীদের দাবি, এটি শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, প্রশাসনিক কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করার শামিল। এদিনের সভা থেকে আরাবুল ইসলাম সরাসরি আক্রমণ করেন তৃণমূল নেতা Shaukat Molla-কেও। ভাঙড়ের রাজনীতিতে বহুদিনের এই দুই নেতার সংঘাত নতুন করে সামনে এসেছে। আইএসএফে যোগ দেওয়ার পর সেই সংঘাত আরও তীব্র আকার নিল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।
রাজ্যে ইতিমধ্যেই বেজে গিয়েছে ভোটের দামামা। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ২৩ ও ২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ এবং ৪ মে ফল প্রকাশের কথা। তার আগেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন, রাজনৈতিক সংঘাত, দলবদল – সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে আরাবুল ইসলামের (Arabul Islam) মন্তব্য নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, “আইএসএফে যোগ দিয়েই প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি”-এই বার্তা ভোটের আগে এক বিপজ্জনক প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আরাবুল ইসলাম এদিন দাবি করেন, ২০২৬-এর নির্বাচনে ক্যানিং পূর্ব ও ভাঙড়ে জয় নিশ্চিত করবে আইএসএফ। তবে তাঁর এই আত্মবিশ্বাসের পাশাপাশি প্রশাসনকে ঘিরে হুঁশিয়ারি—দুটো মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে, এটি কি শুধুই রাজনৈতিক বার্তা, নাকি ভোটের আগে চাপ তৈরির কৌশল?
সব মিলিয়ে, ফুরফুরা শরীফ থেকে শুরু হওয়া এই যোগদান এখন ভাঙড়ের রাজনীতিতে বড়সড় অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রশাসন কীভাবে এই পরিস্থিতি সামাল দেয়, সেটাই এখন দেখার।


