Aaj India Desk, মালদহ : বুধবার উৎসবের আনন্দের আড়ালে বহু বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটলো গাজোলের এক পরিবারের। হবিবপুরের পর এবার মালদা জেলার গাজোলের শংকরপুর এলাকার বাসিন্দা মহেন্দ্রকুমার সিংহ ও তাঁর স্ত্রী আরতি সিংহ CAA-তে আবেদন করার তিন মাসের মাথায় ভারতীয় নাগরিকত্বের শংসাপত্র হাতে পান।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মহেন্দ্রকুমার সিংহের বাড়ি ছিল বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার মীরজাফর এলাকায়। ধর্মীয় কারণে ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেন তাঁরা। দীর্ঘদিন ধরেও ভারতীয় নাগরিকত্ব না পাওয়ায় তাঁদের ভোটার কার্ড ছিল না। প্রায় তিন মাস আগে তাঁরা নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইন বা CAA-তে আবেদন করেন। সম্প্রতি সেই আবেদনের ভিত্তিতে তাঁদের হাতে আসে নাগরিকত্বের শংসাপত্র। দোলযাত্রার দিন তাঁদের বাড়িতে গিয়েই শংসাপত্র তুলে দেন গাজোলের বিজেপি বিধায়ক চিন্ময় দেববর্মন।
মহেন্দ্রকুমার সিংহ বলেন, “অনেক বছর অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলাম। নাগরিকত্ব পাওয়ার পর স্বস্তি পাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ধন্যবাদ জানাই।”
এই প্রসঙ্গে বিধায়ক চিন্ময় দেববর্মন দাবি করেন, শরণার্থীদের মধ্যে CAA নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, “যাঁরা যোগ্য, তাঁরা আবেদন করলে নাগরিকত্ব পাবেন। আতঙ্কের কারণ নেই।”
অন্যদিকে, তৃণমূল পরিচালিত গাজোল পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন অভিযোগ করেন, “এলাকায় আরও বহু পরিবার আবেদন করেও শংসাপত্র পাননি। দু’জনকে শংসাপত্র দিয়ে রাজনৈতিক প্রচার করা হচ্ছে।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, বাকি আবেদনকারীরা কবে নাগরিকত্ব পাবেন।
উল্লেখ্য, একই সময়ে পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারি এলাকায় বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে ২১ জন আবেদনকারীর হাতে CAA শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রক্রিয়া অনুযায়ী ধাপে ধাপে আবেদনগুলি নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। তবে CAA কার্যকর হওয়ার পর বিভিন্ন জেলায় আবেদন প্রক্রিয়া ও শংসাপত্র বিতরণকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।


