স্নেহা পাল, কলকাতা: রবিবার রাতে দক্ষিণ কলকাতার (South Kolkata) একটি ব্যস্ত এলাকায় আচমকাই ভেঙে পড়ে স্বাভাবিক ছন্দ। মুহূর্তের মধ্যে শোনা যায় বিকট শব্দ। গোলপার্কের (Golpark) কঙ্কুলিয়া রোড জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ভয় ও আতঙ্ক।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার ১ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ গোলপার্ক (Golpark) এলাকার কঙ্কুলিয়া রোডে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। বাইরের এলাকার একদল যুবক স্থানীয়দের সঙ্গে বিবাদে জড়ায়।
প্রথমে ইট-পাটকেল ছোড়া হয়, পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কাঁচা বোমা ছোড়ার পর এক রাউন্ড গুলি চালানোরও অভিযোগ করা হয়। অশান্তির মধ্যে কয়েকটি মোটরবাইক ভাঙচুর করা হয়।
ঘটনায় আহত হন দু’জন। তাদেরকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে খালি কার্তুজ ও বোমার স্প্লিন্টার উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর পর একটি পুলিশের গাড়িতেও হামলার চেষ্টা করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বড় পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
বোমাবাজির ঘটনায় তদন্ত
রবীন্দ্র সরোবর থানার এক ঊর্ধ্বতন আধিকারিক জানান, “পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। সোমবার সকালে ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের ধরতে তল্লাশি চলছে।” এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে।
স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, সোনা পাপ্পু নামে এক গুণ্ডার নেতৃত্বে প্রায় ১০০ জন স্থানীয় বাপ্পি হালদার ও তার সমর্থকদের উপর চড়াও হয়েছিল। তাদের মতে, এলাকায় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতেই এই সংঘর্ষ শুরু হয়। তবে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলর বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় বলেন, একটি পিকনিক সংক্রান্ত বিবাদ থেকেই অশান্তি শুরু হয়।
পরিস্থিতিতে সমালোচনার বন্যা
ঘটনার পর রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি বিষয়ে কড়া সমালোচনা করেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গ কার্যত দুষ্কৃতী ও অপরাধীদের দখলে চলে গিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, পুলিশের একাংশ অপরাধীদের সঙ্গে যোগসাজশে কাজ করছে, ফলে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। দিলীপ ঘোষের দাবি, বর্তমান সরকার থাকলে রাজ্যে এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা বন্ধ করা সম্ভব নয়।


