Aaj lndia Desk ,দক্ষিণ দিনাজপুর : দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরে (Gangarampur) মঙ্গলবার সকাল থেকেই চরম উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়। শুকদেবপুর এলাকায় শাসকদলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের জেরে প্রাণ হারান দুই তৃণমূল কর্মী। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় আতঙ্ক ও রাজনৈতিক চাপানউতোর তীব্র আকার নেয়। তবে এই ঘটনাকে “গোষ্ঠী সংঘর্ষ” হিসেবে মানতে নারাজ তৃণমূল নেতৃত্ব। তাদের দাবি, এটি পরিকল্পিতভাবে ঘটানো একটি ঘটনা এবং এর পিছনে অন্য রাজনৈতিক শক্তির হাত থাকতে পারে। অন্যদিকে, বিরোধীরা এটিকে শাসকদলের অন্তর্দ্বন্দ্বের ফল বলেই তুলে ধরছে। ফলে, ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা এটি কি দলীয় কোন্দল, না কি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে গঙ্গারামপুরের।
গঙ্গারামপুরের মাটিতে তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব যেন নতুন করে রক্তাক্ত অধ্যায় লিখল। সূত্রের খবর, জমি দখলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই শাসকদলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল। ভোটের মুখে সেই চাপা বিরোধই ভয়াবহ সংঘর্ষে বিস্ফোরিত হয়।
এই সংঘর্ষ শুধু কথার লড়াইয়ে থেমে থাকেনি চলেছে ব্যাপক মারধর, ভাঙচুর, এমনকি বাড়িতে আগুন লাগানোর অভিযোগও উঠেছে। গুলিচালনার কথাও সামনে এসেছে। অভিযোগ, তৃণমূল কর্মী কালীপদ সরকারকে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে দলেরই অপর গোষ্ঠীর হাতে। অন্যদিকে গুরুতর জখম সন্দীপ সরকার মালদহে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মারা যান। এই জোড়া মৃত্যুর ঘটনায় গোটা এলাকায় আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে। দক্ষিণ দিনাজপুরে তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল নতুন নয়। দেড় বছর আগে এই দ্বন্দ্বের জেরেই দল ছেড়েছিলেন তৎকালীন জেলা সভাপতি বিপ্লব মিত্র (Biplab Mitra)। পরে তাঁর দলে ফেরা হলেও, অন্তর্দ্বন্দ্বের আগুন যে নিভেনি, তা আবারও প্রমাণ হল।
সম্প্রতি উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ( Abhishek Banerjee) জেলা নেতৃত্বকে গোষ্ঠীকোন্দল মেটানোর কড়া নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে সেই নির্দেশ যে কার্যকর হয়নি, গঙ্গারামপুরের এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা যেন তারই নির্মম প্রমাণ।
সব মিলিয়ে, এই সংঘর্ষ শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং শাসকদলের ভিতরে জমে থাকা দ্বন্দ্ব, নিয়ন্ত্রণহীনতা এবং রাজনৈতিক বাস্তবতার এক ভয়ঙ্কর প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠছে।


