Aaj India Desk, মুর্শিদাবাদ : মুর্শিদাবাদে নির্বাচনী সভা থেকে বিজেপির সঙ্গে অধীর চৌধুরী এবং হুমায়ুন কবীরের ‘সেটিং’-এর অভিযোগ তুললেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জি (Abhishek Banerjee)।
নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
রবিবার মুর্শিদাবাদের নওদা এলাকার নির্বাচনী সভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে থেকে রাজ্য পুলিশের নিরাপত্তা পান। অথচ অধীর চৌধুরী ও হুমায়ুন কবির সিআরপিএফের নিরাপত্তা পাচ্ছেন কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তিনি দাবি করেন, বিরোধীরা যদি বলেন যে রাজ্য পুলিশ তাঁদের নিরাপত্তা দেয় না, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তাঁর কথায়, “আপনারা যদি মানুষের প্রতিনিধি হন, তাহলে কেন্দ্রের দেওয়া নিরাপত্তা ফিরিয়ে দিন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাজ্য সরকার নিরাপত্তা দেবে।”
সেটিং এর ইঙ্গিত দিলেন অভিষেক ?
অভিষেকের এই মন্তব্য অধীর চৌধুরীর দীর্ঘদিনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। অধীর আগে দাবি করেছিলেন, মুর্শিদাবাদে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে ‘সমঝোতা’ রয়েছে এবং তা অশান্তি তৈরির জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে নওদার সভা থেকে অভিষেক এই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেন। তিনি আরও বলেন, দিল্লিতে প্রাক্তন সাংসদদের সরকারি বাসভবন ছাড়তে হলেও অধীর চৌধুরীর বাড়ি এখনও বজায় রয়েছে, যা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এর মাধ্যমে ‘সেটিং’-এর ইঙ্গিত দেন তৃণমূল নেতা।
পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) অভিযোগ করেন, SIR ইস্যুতে মুর্শিদাবাদে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে, কিন্তু তৃণমূল ছাড়া অন্য কোনও দল বা নেতা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ায়নি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, রাজ্যের বকেয়া নিয়ে কেন্দ্রকে অধীর চৌধুরী কোনও চিঠি লেখেননি। প্রমাণ দিতে পারলে রাজনীতি ছাড়ার কথাও ঘোষণা করেন তিনি।
উল্লেখ্য, লোকসভায় পরাজয়ের পরও অধীর চৌধুরী বিধানসভা নির্বাচনে বহরমপুর-সহ একাধিক আসনে প্রভাব ফেলতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, হুমায়ুন কবির তৃণমূল ছেড়ে যাওয়ায় সংখ্যালঘু ভোটের বিভাজন নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে শাসকদলের ওপর। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল বিজেপির সঙ্গে ‘সেটিং’-এর অভিযোগ তুলে সংখ্যালঘু ও ধর্মনিরপেক্ষ ভোট একত্রিত রাখার কৌশল নিচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
সভায় দলীয় অন্তর্কলহ নিয়েও বার্তা দেন অভিষেক। প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে অসন্তোষ থাকলে তাঁকেই প্রার্থী হিসেবে ভাবতে বলেন, তবে কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট করেন। শেষে বিজেপিকে আক্রমণ করে তিনি দাবি করেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপি থেকে দল ভাঙছে, কিন্তু বাংলায় তৃণমূলই একমাত্র দল যেখানে বিজেপি ছেড়ে নেতারা যোগ দিচ্ছেন। তাঁর বক্তব্য, বিজেপিকে হারানোর ক্ষমতা একমাত্র তৃণমূলেরই রয়েছে।


