Aaj India Desk, কলকাতা: বিজেপির প্রার্থী তালিকা প্রকাশকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনা। বিশেষ করে দ্বিতীয় দফার তালিকায় একাধিক চেনা মুখ ও বিতর্কিত ব্যক্তিত্বকে প্রার্থী করায় প্রশ্ন উঠছে দলের অন্দরমহলে।
একাংশের দাবি, একদিকে বিজেপি “পরিবর্তন”ও “স্বচ্ছ রাজনীতি”-র কথা বললেও, অন্যদিকে পুরনো ও বিতর্কে জড়ানো নেতাদেরই বারবার প্রার্থী করা হচ্ছে। এতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে দল বদল করা নেতাদের টিকিট দেওয়ায় তৃণমূল ও অন্যান্য বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছে এটি আদর্শের রাজনীতি নয়, বরং সম্পূর্ণভাবে ক্ষমতা দখলের রাজনীতি। ধর্মীয় মেরুকরণের অভিযোগও উঠেছে। বিরোধীদের মতে, কিছু কেন্দ্রে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ধর্মীয় সমীকরণকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, যা নির্বাচনী পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে। এর ফলে সামাজিক সম্প্রীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকেই।
১৬ মার্চ প্রথম দফায় ১৪৪টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে বিজেপি। আর বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফার তালিকা (BJP Second List) প্রকাশ হতেই স্পষ্ট যে দল এবার পরিচিত মুখ, দলবদল করা নেতা এবং সংগঠনের পুরনো কর্মীদের একসঙ্গে মিশিয়ে এক নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ।
এই তালিকায় নজর কাড়ছে একাধিক হাই-প্রোফাইল নাম। এগরায় দিব্যেন্দু অধিকারী, শ্যামপুরে হিরণ, নোয়াপাড়ায় অর্জুন সিং, ব্যারাকপুরে কৌস্তভ বাগচী প্রত্যেকেই নিজ নিজ এলাকায় পরিচিত এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী।
রাজারহাট ও গোপালপুরে তরুণজ্যোতি তিওয়ারি, সোনারপুর দক্ষিণে রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, টালিগঞ্জে পাপিয়া অধিকারী এবং যাদবপুরে শর্বরী মুখোপাধ্যায় এই নামগুলো শহুরে ভোটব্যাঙ্কে বিশেষ গুরুত্ব রাখবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।একই সঙ্গে মাথাভাঙায় নিশীথ প্রামাণিক, এন্টালিতে প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল, কাশীপুর ও বেলগাছিয়ায় রীতেশ তিওয়ারি, মানিকতলায় তাপস রায় এবং হিঙ্গলগঞ্জে রেখা পাত্র এই প্রার্থীদের বাছাই স্পষ্ট করে দিচ্ছে, বিজেপি এবার গ্রাম ও শহর দুই ক্ষেত্রেই ভারসাম্য রাখতে চাইছে।
প্রথম দফায় ১৪৪ এবং দ্বিতীয় দফায় আরও ১১১ সব মিলিয়ে ২৯৪ আসনের মধ্যে ইতিমধ্যেই ২৫৫টি কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করে ফেলেছে BJP। ফলে এখনও ৩৯টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা বাকি, আর সেই বাকি তালিকাই এখন রাজ্যের রাজনৈতিক জল্পনার কেন্দ্রবিন্দু। বিশেষ নজর কেড়েছে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি কেন্দ্র। এখনও সেখানে প্রার্থী ঘোষণা না হওয়ায় জল্পনা তুঙ্গে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, আরজি কর কাণ্ডে নির্যাতিতার মাকে প্রার্থী করে আবেগ ও প্রতিবাদের বার্তা দিতে পারে বিজেপি। যদি তা হয়, তবে তা শুধু প্রার্থী ঘোষণা নয় বরং একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা হয়ে উঠবে।
নির্বাচনের আগে শেষ দফার এই অপেক্ষা তাই শুধুই নাম ঘোষণার নয়, বরং কৌশল, আবেগ এবং জনমত এই তিনের সমীকরণ। শেষ ৩৯টি আসনে কাদের উপর ভরসা রাখবে বিজেপি, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। কারণ এই চূড়ান্ত তালিকাই নির্ধারণ করতে পারে ভোটের লড়াইয়ের শেষ সুর কৌশলের জোরে এগোবে দল, না কি বিতর্কই হয়ে উঠবে প্রধান ইস্যু।


