কলকাতা: এসআইআরের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরদিনই নির্বাচনমুখী বাংলায় ‘পরিবর্তন যাত্রা’য় (Parivartan Yatra) নামছে বিজেপি। ১ ও ২ মার্চ রাজ্যের ৯ জায়গায় পরিবর্তন যাত্রা করবে বিজেপি। কলকাতা হাইকোর্ট যাত্রায় অনুমতি দেওয়ার পাশাপাশি স্পষ্ট জানিয়েছে, মিছিলে ১ হাজারের বেশি লোক নয়, সরকারি সম্পত্তি যেন কোনরকমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। মিছিল থেকে কোনোরকম কুরুচিকর, উত্তেজনামূলক স্লোগান নয়, যানজট করা যাবে না, ২০ জন স্বেচ্ছাসেবকের নাম ও ফোন আগে পুলিশকে দিয়ে রাখতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রেখে করতে হবে যাত্রা।
যাত্রার সূচনা করবেন নীতিন নবীন ও শমিক ভট্টাচার্য
১ মার্চ বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন এবং রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য কোচবিহারের রাসমেলা ময়দান থেকে যাত্রা শুরু করবেন। মাঝে দোলযাত্রার জন্য ৩ এবং ৪ মার্চ যাত্রা বন্ধ থাকার পর ৫ মার্চ দোলের পর যাত্রা পুনরায় শুরু হবে। ১ এবং ২ মার্চ মিলিয়ে মোট ৯ টি বড় জনসভা হওয়ার কথা আছে। এই কর্মসূচীতে উপস্থিত থাকবেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন, কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং পূর্বতন সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ অন্যান্য বিজেপি নেতৃত্ব উপস্থিত থাকবেন।
আসতে পারেন নরেন্দ্র মোদী
প্রসঙ্গত, ২৭ ফেব্রুয়ারি কলকাতার স্প্রিং ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠকে পরিবর্তন যাত্রার (Parivartan Yatra) টিজার প্রকাশ করে বঙ্গ বিজেপি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সাংবাদিক বৈঠকে বলা হয়, দোলের জন্য ৩ এবং ৪ মার্চ যাত্রা বন্ধ থাকবে। এরপর ৫ তারিখ ৯ টি যাত্রা হবে। শুধু তাই নয়, যাত্রা শেষ হবে ব্রিগেড ময়দানে, যেখানে উপস্থিত থাকতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
“যাত্রাপালা, অপেরা শেষে মানুষ জবাব দেবে”
আসল পরিবর্তন-এর দাবীতে যাত্রায় নামছে বিজেপি। এদিকে এই পরিবর্তন যাত্রা (Parivartan Yatra) নিয়ে কটাক্ষের সুর চড়িয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দোলের মুখপাত্র অরূপ বিশ্বাস কটাক্ষ করে বলেন, “যাত্রাপালা, অপেরা শেষে মানুষ জবাব দেবে।” প্রসঙ্গত, ২০২১-এ ২০০ আসনে জয়ের আত্মবিশ্বাস দেখালেও ৭০-এ আটকে গিয়েছিল বিএজপি। এবার তাদের আসন সংখ্যা আরও কমবে, দাবী তৃণমূলের।
অন্যদিকে, বিজেপি-তৃণমূলকে একযোগে বিঁধেছে সিপিএম। দোলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, এর আগে একজনের পরিবর্তনের দাবীতে ‘ভুলে’ দরজা খুলে দিয়েছিল বাংলার মানুষ। সেই ভুল সবাই হারে হারে টের পাচ্ছে। এবার আরও এক দোলের বুজরুকিতে মানুষ ভুল পদক্ষেপ নেবেন না।


