25 C
Kolkata
Sunday, March 29, 2026
spot_img

ভোটের মুখে আলু রপ্তানি, “ললিপপ” তত্ত্বে বিজেপির কটাক্ষ

Aaj lndia Desk,হুগলি: এক বছর ধরে চাষিদের আর্তনাদ দাম নেই, সংরক্ষণের সমস্যা, লোকসানের বোঝা এসব কি সত্যিই শোনা যায়নি? আর ঠিক ভোটের মুখে হঠাৎই সিদ্ধান্ত! তাই প্রশ্নটা এখন আরও জোরালো এটা কি নীতিগত পদক্ষেপ, নাকি ভোটের চাপেই বদলানো অবস্থান?চাষিদের একাংশের কটাক্ষ, “এতদিন আলু পচে গেল, কেউ খোঁজ নিল না। এখন ভোটের আগে হঠাৎ সব দরজা খুলে গেল কেন?” তাঁদের আশঙ্কা, ভোটের আগে যে তৎপরতা দেখা যাচ্ছে, ভোট মিটলেই কি আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাবে সব?কেউ কেউ সরাসরি বলছেন, “ভোট আসবে-যাবে, কিন্তু আমাদের সমস্যা কি সত্যিই মিটবে? নাকি আবারও প্রতিশ্রুতির ফাঁদে ফেলে রাখা হবে?” আবার আরেক অংশের মত, এই সিদ্ধান্তের পিছনে ভোটারদের প্রভাবিত করার কৌশলও থাকতে পারে। সব মিলিয়ে, আলুর রাজনীতিতে এখন প্রশ্নই সবচেয়ে বড় এই পদক্ষেপ কি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের ইঙ্গিত, নাকি শুধুই নির্বাচনী সময়ের “তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা”?

তবে আসল প্রশ্নটা অন্য জায়গায় সিদ্ধান্তটা কি খুব দেরিতে এল না? যখন বৃষ্টিতে শত শত চাষির আলুর বস্তা পচে নষ্ট হচ্ছিল, তখন সেই তৎপরতা কোথায় ছিল? তখন কি কেউ মাঠে নেমে দেখেছিল ক্ষতির ছবি? চাষিদের কটাক্ষ, “লোকসান যখন হচ্ছিল, তখন নীরবতা আর ভোট এলেই সক্রিয়তা! এটাই কি নীতি?” আরও বড় প্রশ্ন, যাদের ফসল পচে গেল, তাদের ক্ষতিপূরণ কি মিলেছে? নাকি সেটাও শুধু আশ্বাসের খাতায় রয়ে গেল? অনেকের বক্তব্য, “ক্ষতির সময় পাশে না দাঁড়িয়ে, পরে সিদ্ধান্ত নিলে কি আদৌ লাভ হয়? নাকি এটা শুধুই ভোটের আগে দায় সারার চেষ্টা?”

ভোটের মুখে হঠাৎই আলুর ‘দরজা খুলে গেল’ এমনটাই কটাক্ষ শোনা যাচ্ছে চাষিদের একাংশের মুখে। এতদিন ভিনরাজ্যে আলু পাঠানো নিয়ে ছিল একাধিক বিধিনিষেধ, আর ঠিক নির্বাচন এলেই ছাড়পত্র! প্রশ্ন তুলছেন আলু চাষিরা এটা কি বাজার নীতির সিদ্ধান্ত, নাকি ভোটের অঙ্ক? সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ওয়েস্ট বেঙ্গল পট্যাটো গ্রোয়ার্স প্রোগ্রেসিভ অর্গানাইজেশন (West Bengal Potato Growers’ Progressive Organization ) এর উদ্যোগে তারকেশ্বর থেকে অসম ও ত্রিপুরায় আলু পাঠানো শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই তিনটি রেক ছেড়ে গিয়েছে, শনিবার আরও একটি রওনা দেওয়ার কথা। মোট চারটি রেকে প্রায় ১ লক্ষ ৬৮ হাজার বস্তা আলু বাইরে যাচ্ছে।

কিন্তু চাষিদের অভিযোগ, “আমাদের আলুর দাম পড়ে গেলে কেউ পাশে থাকে না, আর ভোট এলেই হঠাৎ করে রপ্তানির দরজা খুলে যায়! এতদিন আলু পচে গেল, লোকসান হল তার দায় নেবে কে?”অনেকের কথায়, এই সিদ্ধান্ত যদি আগেই নেওয়া হত, তাহলে হয়তো এত ক্ষতির মুখে পড়তে হত না। এখন ভোটের আগে তড়িঘড়ি এই পদক্ষেপকে “চোখে ধুলো দেওয়া” বলেই কটাক্ষ করছেন চাষিরা।

ভিনরাজ্যে আলু পাঠানো নিয়ে কিছুটা স্বস্তির ছবি তুলে ধরলেন ওয়েস্ট বেঙ্গল পট্যাটো গ্রোয়ার্স প্রোগ্রেসিভ অর্গানাইজেশনের রাজ্য সভাপতি স্বপন সামন্ত। তাঁর দাবি, আপাতত রেলের তরফে চারটি রেক পাওয়া গিয়েছে, প্রতিটিতে ৪২টি করে বগি। প্রতি বগিতে প্রায় ১০০০ বস্তা আলু ধরার হিসেবে, একেকটি রেকে প্রায় ৪২ হাজার বস্তা আলু পাঠানো সম্ভব হচ্ছে। এই আলুগুলি মূলত আরামবাগ, তারকেশ্বর, পুরশুড়া, খানাকুল, হরিপাল-সহ বিভিন্ন এলাকার চাষিদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। বর্তমানে চাষিরা ৫০ কেজির এক বস্তা আলুর দাম পাচ্ছেন প্রায় ২৮০ টাকা। যদিও বাজারে একই আলু অনেক জায়গায় ১২০ টাকাতেও বিক্রি হচ্ছে যা দামের এই বৈষম্য নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। স্বপন সামন্ত স্বীকার করেছেন, চাষিরা যে দাম পাচ্ছেন তা খুব সন্তোষজনক নয়। তবে তাঁর কথায়, “জমিতে পড়ে থেকে আলু নষ্ট হওয়ার থেকে এই দামটাও আপাতত ভরসা দিচ্ছে।” পাশাপাশি তিনি জানান, আরও বেশি রেকের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে, যাতে চাষিদের কিছুটা হলেও স্বস্তি মেলে।

রেকর্ড ফলনের চাপেই এবার দামে ধস এমনটাই দাবি রাজ্য কৃষি বিপণন দপ্তরের এক আধিকারিকের। তাঁর কথায়, উৎপাদন বেশি হওয়ায় চাষিরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না, বাধ্য হয়ে কম দামে মাঠ থেকেই আলু বিক্রি করতে হচ্ছে অনেককে। হুগলির অধিকাংশ হিমঘর ইতিমধ্যেই ভর্তি, ফলে আলু বাইরে না পাঠালে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারত। সেই কারণেই ধাপে ধাপে ভিনরাজ্যে আলু পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনের ব্যাখ্যা। তবে এই যুক্তিকে ঘিরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিজেপির আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুশান্ত বেরা কটাক্ষ করে বলেন, “আলুচাষিদের ক্ষোভ বুঝেই এখন তড়িঘড়ি এই সিদ্ধান্ত। আসলে ভোটের আগে ‘ ললিপপ ‘ দেখানো হচ্ছে।”

একদিকে প্রশাসনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ-এর দাবি, অন্যদিকে বিরোধীদের ভোটকেন্দ্রিক রাজনীতির অভিযোগ এই দুইয়ের মাঝেই পড়ে রয়েছেন আলুচাষিরা, যাদের কাছে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, আদৌ কি মিলবে স্থায়ী সমাধান?

 

 

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন