Aaj India Desk, বর্ধমান : ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে ততই সব রাজনৈতিক দলগুলি জনসংযোগ ও প্রচারের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্রে প্রচারে গিয়ে স্থানীয়দের প্রশ্নেই চাপে পড়লেন বিজেপির বিধায়ক ও প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)।
পাঁচ বছর পর মাঠে নেমে প্রশ্নের মুখে
২০২১ সালে আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে জয়ী হন ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)। কিন্তু প্রায় পাঁচ বছর পর এলাকায় সরাসরি প্রচারে গিয়ে প্রশ্নবাণে জর্জরিত হন তিনি। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাধিক প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দিতে না পারায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিন এলাকায় অনুপস্থিত থাকার পর হঠাৎ ভোট চাইতে আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাধারণ মানুষ।
নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে নিয়মিত এলাকায় উপস্থিতি ও উন্নয়নমূলক কাজের অভাব নিয়ে অভিযোগ করে স্থানীয়রা তাঁকে সোজাসুজি প্রশ্ন করেন, “এতদিন দেখা যায়নি, এখন কেন ভোট চাইতে এসেছেন?” এই প্রশ্ন শুধু তাৎক্ষণিক ক্ষোভ নয়, বরং দীর্ঘদিনের অসন্তোষের প্রতিফলন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
পাড়ার নামও বলতে পারলেন না
এছাড়াও যে স্থানীয় পাড়ায় অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul) ভোট প্রচারে এসেছিলেন সেই পাড়ার নাম জানতে চাওয়া হলে সেটিও বলতে না পারেননি তিনি। এই ঘটনায় আরও অসন্তোষ ছড়ায় এলাকায়।
‘লোকাল কানেক্ট’ নিয়ে প্রশ্ন
ঘটনায় প্রার্থীর সঙ্গে এলাকার দৈনন্দিন সংযোগ কতটা গভীর, সেই প্রশ্নও উঠে আসছে। বিশেষ করে বিধানসভা নির্বাচনের মতো লড়াইয়ে ভোটারদের কাছে ‘লোকাল কানেক্ট’ এখন বড় রাজনৈতিক পুঁজি। নির্বাচনের ঠিক আগে প্রচার বাড়ানো যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ডেকে আনতে পারে তা এখন স্পষ্ট।
সব মিলিয়ে, আসানসোল দক্ষিণের এই ঘটনা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে নির্বাচনের আগে শুধুমাত্র প্রচার নয়, ধারাবাহিক জনসংযোগ ও বাস্তব কাজের হিসাবই এখন ভোটারদের কাছে সবচেয়ে বড় বিষয়। অগ্নিমিত্রা পালের ক্ষেত্রে উঠে আসা এই অসন্তোষ বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রবণতার দিকেই ইঙ্গিত করছে। বর্তমানে ভোটাররা আরও বেশি জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা প্রত্যাশা করেন। ফলে পাঁচবছর বাদে হঠাৎ নিজ স্বার্থে জনসংযোগে নামলেই যে স্থানীয়রা তা মেনে নেবেন তা নয়। এবার এই ধরনের প্রতিক্রিয়া প্রার্থীদের কৌশল ও প্রচারের ধরন কতটা বদলাতে বাধ্য করে, সেটাই দেখার।


