Aaj India Desk, কলকাতা : ভোটের আবহে উত্তপ্ত রাজ্য। এর মধ্যেই উত্তরবঙ্গ সফরে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (Droupadi Murmu) মন্তব্যের প্রেক্ষিতে শনিবার সন্ধ্যায় ধর্নামঞ্চ থেকে কড়া জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শনিবার শিলিগুড়িতে আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (Droupadi Murmu) রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাংলায় আদিবাসীদের উন্নয়ন নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিতির সংখ্যাও খুব কম ছিল বলে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, “এটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মতো মনে হচ্ছে না।”এছাড়া মুখ্যমন্ত্রী বা রাজ্যের কোনও মন্ত্রী তাঁকে স্বাগত জানাতে না যাওয়া নিয়েও তিনি আক্ষেপ করেন।
ধর্মতলার মঞ্চ থেকে মমতার জবাব
এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ধর্মতলায় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ধর্নামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী প্রতিক্রিয়া দেন। তিনি বলেন, “আমি আজ তাঁর (রাষ্ট্রপতির) অনুষ্ঠানের কথা জানতাম না। এটি কোনও সরকারি অনুষ্ঠান নয়, সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কর্মসূচি।” মমতার বক্তব্য, বর্তমানে ভোটাধিকার রক্ষার আন্দোলনই তাঁর অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, “মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। আমি এখন সেই লড়াই করছি। আমার কাছে মানুষের অধিকারই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।” এর পরেই রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “আমি দুঃখিত, কিন্তু বলতে বাধ্য হচ্ছি, ম্যাডাম, আপনাকে বিজেপি ব্যবহার করছে।”
আদিবাসী উন্নয়ন নিয়ে পাল্টা দাবি
রাষ্ট্রপতির মন্তব্যের পরই তৃণমূল কংগ্রেস তাদের সামাজিক মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন আদিবাসী উন্নয়ন প্রকল্পের তালিকা প্রকাশ করে। দলের দাবি, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে তফসিলি জনজাতি (ST) মহিলাদের মাসিক ভাতা বাড়িয়ে ১৭০০ টাকা করা হয়েছে। বছরে তাঁরা পাচ্ছেন ২০,৪০০ টাকা। এছাড়া ‘সিধু-কানু মেমোরিয়াল আবাসিক স্কুল’ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে সাঁওতালি ভাষায় শিক্ষার সুযোগ থাকবে। জঙ্গলমহল অঞ্চলের ৩৫,৮৪৫ জন কেন্ডু পাতা সংগ্রাহক ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল কেন্ডু লিভস কালেক্টরস সোশ্যাল সিকিউরিটি স্কিম’-এর আওতায় সামাজিক সুরক্ষা পাচ্ছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি রাজ্য সরকার আরও জানিয়েছে, আদিবাসী এলাকায় রাস্তা, সেতু, পানীয় জলের ব্যবস্থা, সৌরচালিত টিউবওয়েল, হোস্টেল সংস্কার, কমিউনিটি হল ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র নির্মাণ এবং সৌর স্ট্রিট লাইট বসানোর কাজ চলছে। এই প্রকল্পগুলিতে ইতিমধ্যে ৭৮.৯৪ কোটি টাকা খরচ হয়েছে বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
তবে আদিবাসী জনজাতি নিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (Droupadi Murmu) মন্তব্য এবং মুখ্যমন্ত্রীর পাল্টা প্রতিক্রিয়াকে ঘিরে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।


