কলকাতা: জনপ্রিয় হিন্দি গান, “না বাপ বড়া না ভাইয়া, সবসে বড়া রুপাইয়া”! যুবসাথী (Yuvasathi) ক্যাম্পের পঞ্চম দিনের চিত্রতে সেই কথাই ফুটে উঠছে! ভোটের আগে যে নগদ খয়রাতি নিয়ে সুর চড়াচ্ছিল বিরোধীরা, আজ সুপ্রিম উঠল সেই প্রশ্ন। কিন্তু হঠাৎ সুর পাল্টে ফেলল বিরোধীরা?
যুবসাথীর ক্যাম্পে বিজেপির যুব মোর্চা, তো কোথাও আবার রেজিস্ট্রেশনে সাহায্য করছে সিপিআইএম। জলপাইগুড়ির বটতলা এলাকায় যুবসাথী (Yuvasathi) রেজিস্ট্রেশন ক্যাম্পে তদারকি করেন বিজেপির (BJP) পঞ্চায়েত প্রধান। নির্বিঘ্নে যুবক-যুবতীদের ফর্ম ফিলাপের জন্য সয়াহতা করেন বিজেপির যুব মোর্চার সদস্যরা। তাঁদের বক্তব্য, ‘রাজ্যে চাকরি নেই। এই বেকার ভাতা গঙ্গাজলে গঙ্গাপুজোর মতই’।
অন্যদিকে, পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া ২ ব্লকে যাত্রী প্রতিক্ষালয়ের সামনে শিবিরে বেকার এবং ক্ষেতমজুরদের ফর্ম পূরণ করতে দেখা গেল সিপিআইএম (CPIM) কর্মী সমর্থকদের। যেখানে বিরোধী দলের সুপ্রিমোরা ক্রমাগত ভোটের আগে ভাতা দিয়ে কটাক্ষ করছে, সেখানে দলেরই নেতা কর্মীদের একাংশ ঠিক বিপরীত কাজে লিপ্ত! এই প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, এই কাজে দলমত নির্বিশেষে সকলের সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসা উচিৎ।
শাসকদলের বোনাস পয়েন্ট?
এখন প্রশ্ন উঠছে, প্রকাশ্যে বিরোধিতা করলেও যুবসাথীর (Yuvasathi) ক্যাম্পে বিরোধীদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার কি ভাতা দেওয়া নিয়ে বোনাস পয়েন্ট পেয়ে যাবে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস? বিরোধীদের অবশ্য বক্তব্য, কেউ নিজের পকেট থেকে এই ভাতা দিচ্ছে না। জনসাধারণের ট্যাক্সের টাকাই ভাতা হিসেবে বিলানো হচ্ছে। তাই নিতে যাচ্ছেন আমজনতা। পাশাপাশি, ভাতা সাময়িক সমাধান এবং চাকরি, কর্মসংস্থানের দাবীতে অনড় বিরোধী শিবির।
ভোটের অঙ্কে ভাঁটার ভয়?
তবে রাজ্য সরকারের যুবসাথী (Yuvasathi) ক্যাম্পে সাহায্যের জন্য বিজেপি-সিপিআইএমের একাংশের এগিয়ে আসা নিয়ে আরও একটি প্রশ্ন দানা বাঁধছে। ভোটের আগে কি এইভাবে জনসংযোগ বাড়াতে চাইছে বিরোধীরা? নাকি, ভাতা দিয়ে তৃণমূল পাছে বেশি ভোট পেয়ে যায়, সেই সম্ভাবনা ঠেকাতেই ক্যাম্পের বাইরে মানুষের সাহায্যে এগিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা?


