কলকাতা: বৃহস্পতিবার বিজেপির দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকা (BJP Candidate List) প্রকাশের পর জেলায় জেলায় কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষোভের ছবি ধরা পড়েছে। শুক্রবার সেই বিক্ষোভের ঢেউ আছড়ে পড়েছে সল্টলেকের বিজেপি কার্যালয়ের সামনে। অনেকেই কার্যালয়ের সামনে বসে পড়ে দাবী জানাতে থাকেন। ইনেকে আবার দলছাড়ার হুঁশিয়ারিও দেন।
মহিষাদল বিধানসভা কেন্দ্রে এবার নতুন মুখ স্থানীয় ব্যবসায়ী সুভাষ পাঁজাকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। এই নিয়ে তমলুক সাংগঠনিক জেলা সদস্য বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মহিষাদল মণ্ডল ৫ এর সাধারণ সম্পাদক দীপক কুমার জানা দল ছাড়ার ঘোষণা করেন। শুক্রবারই তড়িঘড়ি ‘অভিমানী’ বিদায়ি বিধায়ক বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেন শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি আলিপুরদুয়ারে পরিতোষ দাসকে প্রার্থী করায় পার্টি অফিসে ভাঙচুর করেন বিজেপি কর্মীরা। একই ছবি মালদাতেও।
সল্টলেক কার্যালয়ের সামনে ধুন্ধুমার বেঁধে যায়
জেলায় জেলায় বিক্ষোভের পাশাপাশি শুক্রবার বেলেঘাটার প্রার্থী পার্থ চৌধুরী, এন্টালির প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়ালসহ কয়েকটি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থীদের প্রতি অসন্তোষ জানিয়ে বিজেপি কর্মীরা সল্টলেকের বিজেপি দফতরের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। স্লোগান, অবস্থানে ধুন্ধুমার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে আসেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, লকেট চট্টোপাধ্যায়রা। দলীয় কর্মীরা প্রার্থী (BJP Candidate List) বদলের দাবীতে স্লোগান দিতে থাকলে তাঁদের বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করতে থাকেন তাঁরা। একটা পর্যায়ে শমীক ভট্টাচার্যকে বলতে শোনা যায়, “ভোটের বিষয়ে দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। একটা সময় পর্যন্ত আমি বরদাস্ত করব। তারপর কিন্তু আর করব না”।
বিক্ষোভের কথা মানতে নারাজ লকেট!
যদিও এই বিষয় নিয়ে অন্য সুর শোনা গেল লকেট চট্টোপাধ্যায়ের গলায়। তিনি বলেন, “কিছু হয়নি। আমরা পরিবার। সমস্যা মিটিয়ে নেব”। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি সুপ্রিমোদের হাইভোল্টেজ ভাষণ, তৃণমূলকে উপড়ে ফেলার স্লোগানে মুখর হলেও, কর্মী সমর্থকদের প্রার্থী-বিক্ষোভে অস্বস্তিতে পড়েছে বিজেপি। তাই ধাপাচাপা দেওয়ার চেষ্টা?
কটাক্ষের ঝড় তৃণমূলের
অন্যদিকে, বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের এই বিক্ষোভে কটাক্ষের ঝড় তুলেছে তৃণমূল। সমাজমাধ্যমে তাদের তির্যক মন্তব্যে ছয়লাপ! তাদের বক্তব্য, “দিল্লি থেকে চাপিয়ে দেওয়া প্রার্থীদের মানছে না স্থানীয় কর্মীরাই। সব মিলিয়ে বিজেপি এখন ব্যাপক চাপের মুখে!” এদিকে ফের ভোটের আগে রাজ্যে আসছেন মোদী-শাহ। প্রার্থী তালিকা নিয়ে কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষোভের উত্তাপ কি প্রশমিত করতে পারবেন তাঁরা? থাকছে প্রশ্ন।


