Aaj India Desk, কলকাতা : সদ্য পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন প্রাক্তন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস (CV Anand Bose)। এরপর বুধবার তিনি সমাজ মাধ্যমে রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে একটি খোলা চিঠি লেখেন।
চিঠির শুরুতেই তিনি পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে “ভাই ও বোনেরা” বলে সম্বোধন করেন। সেই চিঠিতে তিনি বাংলার প্রতি নিজের গভীর ভালোবাসা ও সংযোগের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, “পশ্চিমবঙ্গ আমার দ্বিতীয় বাড়ি। ভবিষ্যতেও আমি এই রাজ্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থাকতে চাই।” পাশাপাশি রাজ্যবাসীর কাছ থেকে পাওয়া সমর্থন, ভালোবাসা ও সম্মানের জন্য কৃতজ্ঞতাও জানান তিনি। বোস লিখেছেন, “আপনাদের কাছ থেকে যে সমর্থন, স্নেহ ও শ্রদ্ধা পেয়েছি তার জন্য আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।”
রাজ্যপাল হিসেবে গত তিন বছরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ভ্রমণের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন সি ভি আনন্দ বোস (CV Anand Bose)। বোস লিখেছেন, “গত তিন বছরে আমি রাজ্যের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি। মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছি। গ্রামবাসীদের সঙ্গে তাদের কুঁড়েঘরে বসে খেয়েছি। ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে পড়াশোনা করেছি এবং জ্ঞানী মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেছি।”
চিঠিতে বাংলার ঐতিহ্য ও ইতিহাসের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, বাংলার মাটি বহু মহান মনীষীর জন্ম দিয়েছে, যারা সমগ্র দেশকে পথ দেখিয়েছেন। ভবিষ্যতেও বাংলা আরও উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি। চিঠির শেষ অংশে বাংলার মানুষের শান্তি, সমৃদ্ধি ও সুস্বাস্থ্যের কামনা করেন বোস।
সি ভি আনন্দ বোসের (CV Anand Bose) এই খোলা চিঠিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও নানা ব্যাখ্যা সামনে আসছে। রাজ্যপালের পদ থেকে ইস্তফার পর বাংলার প্রতি তাঁর “দ্বিতীয় বাড়ি” মন্তব্যকে অনেকেই ভবিষ্যতের সম্ভাব্য রাজনৈতিক ভূমিকার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্য সরকার ও রাজভবনের মধ্যে একাধিক ইস্যুতে টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে এই আবেগঘন বার্তা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ। তাঁদের মতে, বাংলার মানুষ, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে নিজের সংযোগের কথা জোর দিয়ে উল্লেখ করে বোস কার্যত রাজ্যের জনমানসে নিজের উপস্থিতি বজায় রাখার বার্তা দিয়েছেন। যদিও তিনি চিঠিতে সরাসরি কোনো রাজনৈতিক অবস্থান নেননি, তবু রাজনীতির অঙ্গনে তাঁর ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে জল্পনা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।


