স্নেহা পাল, কলকাতা: বেশ অনেকদিন আগেই বঙ্গে নিপা (Nipah) ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিল দুই নার্স। আক্রান্ত দুই নার্সের সংস্পর্শে আসা আরো ৮২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তবে কারও শরীরে নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি মেলেনি বলে জানিয়েছিল স্বাস্থ্য দফতর। এর মধ্যেই ফের বাড়ল নিপা নিয়ে উদ্বেগ।
নিপার প্রথম শিকার
পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার নিপাহ (Nipah) ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এক নার্সের মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার সকালে বারাসাতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তাঁর।
একাধিক হাসপাতালে ভর্তি
গত ৪ জানুয়ারি থেকেই তিনি অসুস্থ ছিলেন। ডায়রিয়া ও জ্বরে আক্রান্ত অবস্থায় প্রথমে কাটোয়া, পরে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হয়ে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয় তাঁকে। রক্ত পরীক্ষায় নিপা (Nipah) ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। ১৪ জানুয়ারি থেকে বারাসাতের বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি।
দীর্ঘদিন ভেন্টিলেশনে চিকিৎসা
চিকিৎসক সূত্রে জানা গেছে, ভর্তি হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং তিনি কোমায় চলে যান। দীর্ঘদিন ভেন্টিলেশনে চিকিৎসা চলার পর গত মাসের শেষদিকে সামান্য উন্নতি হওয়ায় তাঁকে ভেন্টিলেশন থেকে সরানো হয়। তবে চিকিৎসকেরা তখনই জানিয়েছিলেন, তিনি এখনও আশঙ্কামুক্ত নন।
একাধিক অঙ্গ ক্ষতিতে মৃত্যু
প্রায় ৩৯ দিন ধরে চিকিৎসা চললেও শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হয় ওই নার্সের। চিকিৎসকদের মতে, নিপাহ (Nipah) ভাইরাসের কারণে শরীরের একাধিক অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াই মৃত্যুর প্রধান কারণ।
এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত আরও এক পুরুষ নার্সও নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় কয়েক দিন আগেই তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
বর্তমানে নতুন সংক্রমণের প্রমাণ না মিললেও, রাজ্যে নিপা ভাইরাসের প্রথম মৃত্যুর ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বেড়েছে। স্বাস্থ্য দফতর পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং সতর্কতামূলক নির্দেশিকাও বলবৎ রয়েছে।


