কলকাতা: উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, মহারাষ্ট্রের পর ভোটমুখী পশ্চিমবঙ্গে নাম পরিবর্তনের রাজনীতিকে হাতিয়ার করে ময়দানে নেমেছে বিজেপি (BJP)। সোমবার উত্তর দিনাজপুরে ‘পরিবর্তন যাত্রা’ থেকে ইসলামপুরের নাম বদলে “ঈশ্বরপুর” করার ডাক দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি নীতিন নবীন। আর তার জেরেই ভোটের আবহে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন ঝড়! বিজেপির উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, মহারাষ্ট্রের “নাম পরিবর্তনের” কার্ড কি আদৌ বাংলায় খাটবে? প্রশ্ন বিশেষজ্ঞ মহলে।
অন্যদিকে, বিজেপির (BJP) নাম পরিবর্তনের রাজনীতিকে কটাক্ষ করে সুর চড়িয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার সরাক্রি বিজেপিকে “অশিক্ষিতের দোল” বলে কটাক্ষ করে বলেছেন, রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলায় হিন্দু-মুসলিম করার জন্য নাম পরিবর্তনের ধোঁয়া তুলেছে বিজেপি। তিনি আরও বলেন, “বিজেপি নাম বদলে দিলেই ইতিহাস পাল্টে যাবে না। বাংলার নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ-ই থাকবেন”। তৃণমূলের দাবী, ভোটের ময়দানে নাম পরিবর্তনের ধোঁয়া তুলে বিভাজনের রাজনীতি করতে চাইছে বিজেপি।
কি বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
প্রসঙ্গত, বিজেপির (BJP) নাম পরিবর্তনের ধারা শুরুই হয়েছে যোগী আদিত্যনাথের উত্তরপ্রদেশ থেকে। এর এলাহাবাদের নাম পরিবর্তন করে প্রয়াগরাজ করা হয়েছে। মুঘলসরাইয়ের নাম পাল্টে রাখা হয়েছে পন্ডিত দীন দয়াল উপাধ্যায়। লখনউ-এর নামও পরিবর্তনের দাবি উঠেছে। ফৈজাবাদ জেলার নাম বদলে রাখা হয়েছে অযোধ্যা। এই ধারা বজায় রেখে মহারাষ্ট্রের ঐতিহাসিক শহর আওরঙ্গাবাদের নাম পরিবর্তন করে শম্ভুজিনগর করার ঘোষণা করেছে বিজেপি।
এছাড়াও বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র মাউন্ট আবু সহ তিনটি স্থানের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে ঐতিহাসিক ও সনাতনী নাম পুনঃস্থাপন করা যায়। কিন্তু বাংলার জনগণ কি জায়গার নাম পরিবর্তন মেনে নেবে? না-কি বিজেপির এই পদক্ষেপকে “বিভাজনের রাজনীতি” আখ্যা দিয়ে বোনাস পয়েন্ট পেয়ে যাবে তৃণমূল (TMC)? প্রশ্ন বিশেষজ্ঞ মহলে।


