Aaj lndia Desk, হুগলি : পাঁশকুড়ায় (Panskura) নির্বাচনের কাজে থাকা এক সরকারি কর্মী (Government employee) মারধরের শিকার হয়েছেন। একদিন আগে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল কমিশনের অন্যান্য কর্মীর সঙ্গে। অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের (Election commission ) নির্দেশ মেনে পতাকা সরাতে গেলে আচমকা তাঁর ওপর চড়াও হয় কয়েকজন দুষ্কৃতী। মারধরের সঙ্গে মোবাইল ও গাড়ির কাঁচ ভাঙার ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রশ্ন উঠেছে, ভোটের কাজ করা সরকারি কর্মীর নিরাপত্তা কে দেবে? প্রতিটি দলের নেতাদের কি নির্বাচনী বিধি মেনে চলার দায়বোধ নেই? ভোটের মাঠে যেন সরকারি কর্মীরা হামলার শিকার না হন, তা নিশ্চিতে প্রশাসন কি যথেষ্ট সতর্ক?
পাঁশকুড়া (Panskura) ব্লকের পশ্চিম চিলকা এলাকায় আইএসএফের পতাকা সরানোর সময় সরকারি কর্মী লক্ষণ চন্দ্র সামন্তের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। রবিবার বিকেলে রাস্তার বৈদ্যুতিক খুঁটির ওপর আইএসএফের (ISF) পতাকা দেখতে পান তিনি। অভিযোগ, পতাকা সরাতে গেলে আচমকা কয়েকজন দুষ্কৃতী তাঁর ওপর চড়াও হয়। এতে তার গাড়ির কাঁচ ভাঙা হয় এবং সহকর্মীর মোবাইল কেড়ে নিয়ে তা ভাঙার ঘটনাও ঘটেছে।
লক্ষণ চন্দ্র সামন্ত জানিয়েছেন, ‘আমি নির্বাচনের নিয়ম মেনে কাজ করছিলাম। আইএসএফের পতাকা সরাতে গিয়ে আচমকা চার-পাঁচজন আমার ওপর হামলা চালায়। আমাকে মারধর করা হয় এবং গাড়ির কাঁচ ভেঙে দেওয়া হয়। পরে হাসপাতালে শারীরিক পরীক্ষা করিয়েছি এবং ব্লক প্রশাসনের কাছে বিষয়টি জানিয়েছি।’
আইএসএফ (ISF)-এর পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সকলকে নির্বাচনের নিয়ম মেনে চলতে হবে। পাঁশকুড়া (Panskura) পশ্চিম বিধানসভা ৪ মণ্ডলের বিজেপি সভাপতি তারকনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় আইএসএফের (ISF) বিরুদ্ধে কড়া মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘তৃণমূল আইএসএফকে সহায়তা করছে। সব দলকে নির্বাচনী বিধি মেনে কাজ করার অনুরোধ করছি।’
অন্যদিকে রবিবারই দুর্গাপুরে নির্বাচন কমিশনের দুই কর্মীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, সরকারি দেওয়ালে প্রার্থীর নাম লিখে প্রচার করেছিল তৃণমূল। নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন রোধ করতে দেওয়াল মুছে দেওয়ায় ওই কর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ।
সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের আগে চরম বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা করা হচ্ছে। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, খোদ জুডিশিয়াল অফিসাররাও এই পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত। রাজ্য প্রশাসন ইতিমধ্যেই জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে আইনশৃঙ্খলা বজায় থাকে এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। তবে কমিশন ও সরকারি কর্মীদের ওপর হামলার খবর ইতিমধ্যেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে।


