মুর্শিদাবাদ: ঝাড়খণ্ডে কাজে গিয়ে পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যু ও আনিসুর রহমানের হেনস্থার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরপর দু-দিন রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা (Beldanga)। সড়ক-রেল অবরোধ, বাসভর্তি যাত্রীদের উপর হামলা, সাংবাদিকদের মারধোরের ঘটনা এখন রাজ্য পেরিয়ে দেশের চর্চার বিষয়। শনিবার বেলডাঙার পরিস্থিতি সামাল দিতে র্যাফ নামানো হয়।
লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটিয়ে বিক্ষোভ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ। এখনও পর্যন্ত ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মতিউর রহমান সহ গ্রেফতার প্রায় ৩০। যার মধ্যে সাংবাদিকদের মারধোরের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন ৪ জন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, বিক্ষোভের নামে তান্ডব চালানো দুষ্কৃতিদের বিচার ও শাস্তি আদপে কতটা কার্যকর হবে?
‘উস্কানির’ অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে, রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে
বেলডাঙার ‘অরাজকতা’, পুলিশের ‘অকর্মণ্যতা’, ‘সংবিধানের চতুর্থ স্তম্ভের উপর হামলা’ সহ একাধিক দাবীতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি। এমনকি শনিবার মালদার জনসভা থেকেও ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনামলে বাংলার আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে’ বলে ইঙ্গিত করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)।
অন্যদিকে, বেলডাঙার (Beldanga) ঘটনায় ‘বিজেপির প্ররোচনা’ রয়েছে বলে বহরমপুরের রোড শো-থেকে উল্লেখ করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তবে উল্লেখযোগ্যভাবে বেলডাঙার সাম্প্রতিক রাজনীতিতে উঠে আসছে ভরতপুরের সাসপেন্ডেড তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের নাম। গতকাল বিক্ষোভকারীদের মাঝে পৌঁছে গিয়েছিলেন সদ্য তৈরি করা জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবির (Humayun Kabir)। এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে বচসা করতে দেখা যায় তাঁকে।
অন্যদিকে, বহরমপুরের রোড শো থেকে নাম না করে বেলডাঙার ঘটনায় “এক গদ্দারেরও হাত আছে” বলে হুমায়ুনকে বেঁধেন অভিষেক। স্বাভাবিকভাবেই এই অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগের খেলায় দুষ্কৃতিদের পেছনে কে বা কারা রয়েছেন, সেই নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে গ্রেফতারির পর কি? যদি কোনও রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় এই বিক্ষোভের নামে তান্ডব চালানো হয়ে থাকে, তাহলে বিচারের আশাই বা কতদূর?


