মুর্শিদাবাদ: ঝাড়খণ্ডে কাজে গিয়ে পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় অগ্নিগর্ভ বেলডাঙা (Beldanga)। সকাল ৮ টা থেকে সড়ক, রেল অবরোধ বিক্ষোভকারীদের। ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে লালগোলা-শিয়ালদহ শাখার ট্রেন। বেলা গড়াতে বাড়তে থাকে বিক্ষোভের উত্তাপ। খাবার, জল ছাড়া ট্রেনে আটকে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী। বেলডাঙার ১২ নং জাতীয় সড়কে স্তব্ধ যান চলাচল। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনকে লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়ার অভিযোগ বিজেপির।
রাজ্য সরকারকে বিজেপির তোপ
বেলডাঙার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের শাসনব্যবস্থা নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি (BJP)। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের প্রশ্ন, “ঝাড়খণ্ড তো বিজেপি শাসিত রাজ্য নয়। সেখানে তো মুখ্যমন্ত্রীর বন্ধুর সরকার। তাহলে এই রাজ্যে ট্রেন জ্বালানোর চেষ্টা কেন?” পাশাপাশি, শমীক ভট্টাচার্যের অভিযোগ, “পশ্চিমবঙ্গে আইনের শাসন নেই। পুলিশ এখানে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারা পরিচালিত।”
লাইনে আটকে পড়া ট্রেনের একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে রাজ্যসরকারকে তুলোধোনা করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি লেখেন, “বৃহস্পতিবার থেকে রাজ্যের শাসনব্যবস্থার ছবি ফুটে উঠছে। ফরাক্কা, চাকুলিয়ার পর এবার বেলডাঙা। পুলিশের দেখা নেই। হাজার হাজার যাত্রী ট্রেনে আটকে পড়েছেন। ডিজিপিকে তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরধ জানাচ্ছি”।
“ক্ষোভ স্বাভাবিক” বলেন মুখ্যমন্ত্রী
বেলডাঙার ঘটনা নিয়ে উত্তরবঙ্গ সফরের আগে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আজ জুম্মাবার। ওদের এমনিতেই জমায়েত হওয়ার দিন। যেমন দুর্গাপুজো, শিবপুজোতেও হয়। আমি তাঁদের বারণ করতে পারি না”। এরপর বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দেগে মমতা (Mamata Banerjee) বলেন, “আমরা জানি কাদের প্ররোচনায় এই ঘটনা ঘটেছে। ওদের ক্ষোভ স্বাভাবিক”। সেইসঙ্গে পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।


