Aaj lndia Desk, কলকাতা: ভোট এলেই বদলে যায় দৃশ্যপট । পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬(West Bengal Assembly Election 2026) ঘিরে রাজ্যের রাজনীতিতে এখন চরম ব্যস্ততা আর সেই ব্যস্ততার মাঝেই কখনও কখনও দেখা যায় একেবারে ‘মাটির মানুষ’ হয়ে ওঠার চেষ্টা। হুগলির পুরশুড়া কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী পার্থ হাজরা ( Partha Hazari )প্রচারে বেরিয়ে হঠাৎই ঢুকে পড়লেন এক ভোটারের বাড়িতে। তারপর? বক্তৃতা নয়, প্রতিশ্রুতি নয় ,সরাসরি রুটি বেলা! রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে ময়দা মেখে রুটি বেলতে দেখা গেল তাঁকে। এই ছবি ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক মহলে শুরু চর্চা। বিরোধীদের তোপ, ‘এ সবই ভোটের নাটক!’ তবে পার্থর সাফ জবাব, ‘এটা নতুন কিছু নয়, বাড়িতেও আমি এমনই করি।’
রাজনীতির মঞ্চে এমন ‘ঘরোয়া’ মুহূর্ত নতুন নয়, কিন্তু প্রশ্নটা থেকেই যায় এটা কি সত্যিই মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়ার চেষ্টা? নাকি ভোটের আগে আবেগ ছোঁয়ার কৌশল?ভোটের বাজারে প্রতিশ্রুতির সঙ্গে এখন যোগ হয়েছে ‘পারফরম্যান্স’। কে কতটা বাস্তব, আর কে কতটা অভিনয় সেই বিচার এখন ভোটারদের হাতেই।
ধবধবে সাদা ধুতি-পাঞ্জাবি, গলায় রজনীগন্ধার মালা একেবারে সাবেকি বাঙালি আবহে ভোটের ময়দানে নেমেছেন পার্থ হাজরা (Partha Hazari) । পুরশুড়া বিধানসভা জুড়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগই এখন তাঁর প্রধান কৌশল। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ (West Bengal Assembly Election 2026) সামনে রেখে দলীয় কর্মী – সমর্থকদের নিয়ে শুরু থেকেই জমিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন তিনি। লক্ষ্য একটাই ২০২১ সালে হাতছাড়া হওয়া আসন ফের দখল করা। তবে এই প্রচারে শুধু সভা-সমাবেশ নয়, আছে অন্যরকম ছোঁয়াও। কখনও ভোটারের বাড়িতে বসে গল্প, কখনও রান্নাঘরে ঢুকে রুটি বেলা সব মিলিয়ে ‘নিজের লোক’ হয়ে ওঠার চেষ্টা স্পষ্ট। বিরোধীরা বলছে, ‘এ সবই সাজানো ছবি।’
কিন্তু পার্থর বার্তা অন্য “রাজনীতি মানে দূরত্ব নয়, সম্পর্ক তৈরি করা।’ ভোটের লড়াই যত এগোচ্ছে, ততই বদলাচ্ছে প্রচারের ধরন। পোস্টার-ব্যানারের বাইরে বেরিয়ে এখন প্রার্থীরা পৌঁছে যাচ্ছেন সরাসরি মানুষের ঘরে, তাঁদের দৈনন্দিন জীবনের ভেতরে।
এ কি সত্যিকারের সংযোগ, নাকি ভোটের আগে আবেগ ছোঁয়ার কৌশল তার উত্তর লুকিয়ে আছে ব্যালট বাক্সেই।
কখনও প্রবীণদের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম, কখনও কাউকে জড়িয়ে ধরে আশীর্বাদ ভোটের প্রচারে মানবিক ছোঁয়াই তুলে ধরছেন পার্থ হাজরা (Partha Hazari)। পুরশুড়ার বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে মানুষের সঙ্গে এই ‘ঘনিষ্ঠতা’র রাজনীতিই এখন তাঁর মূল ভরসা।
রাজনীতি যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট, ভোট এখন শুধু প্রতিশ্রুতির লড়াই নয়, ইমেজের লড়াই, আবেগের লড়াই ,আর মানুষের ঘরের ভেতরে জায়গা করে নেওয়ার লড়াই শেষ পর্যন্ত, এই “রুটি রাজনীতি” কতটা ফল দেবে তা বলবে ভোটের ফলই ।
ভোট মানেই শুধু মঞ্চের ভাষণ নয়, এখন তা অনেকটাই ‘দেখানোর রাজনীতি’। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ (West Bengal Assembly Election 2026 ) সামনে এলেই যেন বদলে যায় প্রার্থীদের চরিত্র সব দলেই , সব শিবিরেই একই ছবি। শুধু তৃণমূল নয়, অন্য দলও পিছিয়ে নেই। বীরভূমের দুবরাজপুরে বিজেপি প্রার্থী অনুপ কুমার সাহা ( Anup Kumar Saha)-কে দেখা গিয়েছে এক বয়স্ক ভোটারের দাড়ি কামিয়ে দিতে। বিশেষ “সেবা’র “এই দৃশ্য মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে। আবার ২০২১-এর স্মৃতিও এখনও টাটকা। খড়্গপুরে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে ময়দানে নেমেছিলেন হিরন (Hiran Chatterjee)। ধবধবে সাদা পোশাক, হলুদ ওভারকোট আর তার মাঝেই এক ভোটারকে সাবান মাখানোর ছবি ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়।এই সব দৃশ্য কি নিছক মানবিকতা? নাকি নিখুঁতভাবে সাজানো “ভোটের মুহূর্ত”? রাজনীতির ময়দানে এখন সমীকরণ বদলেছে, কাজের পাশাপাশি “ক্যামেরা ফ্রেম”-ও গুরুত্বপূর্ণ, সংযোগের পাশাপাশি “ইমপ্যাক্ট”-ও জরুরি কারণ, ভোটের লড়াই এখন শুধু বুথে নয় চলছে মানুষের মনে, আর সোশ্যাল মিডিয়ার স্ক্রিনেও।


