পৌলমী ব্যানার্জি, কলকাতা: দীর্ঘ সময় পর অরিজিৎ সিং (Arijit Singh) যখন মঞ্চে ফিরলেন, তখন যেন পুরনো দিনের স্মৃতিগুলো ভিড় করে এলো। রাতের কনসার্টে গান শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চারিদিকে মোবাইল ফোনের আলো ঝলমল করতে শুরু করলো। কয়েক মাস ধরে অরিজিৎ ছিলেন কেবল প্লেলিস্ট আর রিলসের মধ্যে।
অবশেষে তিনি সরাসরি মঞ্চে গান গাইলেন। তাঁর প্রথম গানটি শুনে অনেকেই একেবারে চুপ হয়ে যান, আবার কেউ কেউ আবেগপ্রবণ হয়ে চোখের জলও ফেলেন। মঞ্চে তেমন কোনো চাকচিক্য ছিল না, কেবল ছিল সুর আর অরিজিতের সেই চেনা হাসি। তাঁর কণ্ঠ যেন এক মায়াজাল সৃষ্টি করেছিল।
অনুষ্ঠান আয়োজকরা জানান, কনসার্টের টিকিট খুব দ্রুত বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। শ্রোতাদের মধ্যে সব বয়সের মানুষ ছিলেন—বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে অফিস ফেরত কর্মীরাও। কেউ কেউ রসিকতা করে বলছিলেন, এখন আর থেরাপির প্রয়োজন নেই, অরিজিৎ (Arijit Singh) তো আছেন। অরিজিৎ নিজেও পুরনো দিনের নানা গল্প বললেন। তিনি বলেন, তাঁর শ্রোতারাই এতদিন তাঁকে প্লেলিস্টে ধরে রেখেছিলেন, তাদের ভালোবাসার কাছে তিনি চিরকৃতজ্ঞ।
সমালোচকরা বলছেন, সময়ের সাথে অনেক কিছুই হয়তো পাল্টে যায়, তবে কিছু কণ্ঠ সব সময়ই একইরকম থাকে। অরিজিৎ সিং (Arijit Singh) তাঁদের মধ্যে অন্যতম। তার গানের মাধুর্য আজও শ্রোতাদের মন জয় করে নেয়। এই কনসার্টটি শুধুমাত্র একটি গানের অনুষ্ঠান ছিল না, বরং এটি ছিল সোনালী অতীতের প্রতিচ্ছবি। গান শেষ হওয়ার পরেও অনেকক্ষণ ধরে করতালি চলতে থাকে।
অরিজিৎ যেন বুঝিয়ে দিলেন, কিছু অনুভূতি কখনো পুরনো হয় না, সেগুলি সবসময় হৃদয়ে অমলিন থাকে। তাঁর গানের প্রতি মানুষের ভালোবাসা আজও অটুট, সেটাই তিনি আরও একবার প্রমাণ করলেন। এই কনসার্টটি যেন এক নতুন করে তারুণ্যের জয়গান করলো। অরিজিৎ সিং-এর এই প্রত্যাবর্তন সঙ্গীত জগতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তার গানগুলি আজও মানুষের মনে গেঁথে আছে এবং থাকবে।


