Aaj India Desk, কলকাতা : চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, মতুয়া সম্প্রদায়ের (Matua Community) বহু মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ গেছে। নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, বৈধ নাগরিকত্ব ছাড়া ভোটাধিকার দেওয়া সম্ভব নয়। যাঁদের নথি বিচারাধীন বা যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে, তাঁদের নামও তালিকা থেকে সাময়িকভাবে বাদ পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর পরেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের সূচি ঘোষণার ঠিক আগে মতুয়া সম্প্রদায়ের ভোটাধিকার প্রশ্নে বড় পদক্ষেপ নেয় কেন্দ্র।
প্রশাসনিক তদারকিতে নাগরিকত্ব প্রক্রিয়া
মতুয়া সম্প্রদায়ের (Matua Community) নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার রক্ষায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ চারটি বিশেষ ‘এমপাওয়ার্ড কমিটি’ গঠনের ঘোষণা করেন। কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে গঠিত কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন রাজ্যের জনগণনা দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি রেজিস্ট্রার জেনারেল। উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক আধিকারিকদের তত্ত্বাবধানে নাগরিকত্ব যাচাই হবে।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রশাসনিক জটিলতা ও নথি যাচাইয়ের বিলম্বের কারণে প্রকৃত মতুয়া দাবিদাররা নাগরিকত্বের সনদ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তাই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে উচ্চপর্যায়ের ‘এমপাওয়ার্ড কমিটি’ গঠন করা হচ্ছে।
ভোটব্যাঙ্কে পড়তে পারে প্রভাব ?
অন্যদিকে নিজেদের ভোট ব্যাঙ্ক রক্ষা করতে এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে মতুয়াদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে কেন্দ্রের তরফে এই বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
মতুয়ারা মূলত বাংলাদেশ থেকে আগত হিন্দু সামাজিকভাবে অনগ্রসর শ্রেণির মানুষ, যাঁরা উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়া জেলায় বসবাস করেন। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে এই সম্প্রদায়কে বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে দেখা হয়। দক্ষিণবঙ্গের একাধিক কেন্দ্রেই মতুয়ারা (Matua Community) প্রভাবশালী ভোটারগোষ্ঠী।
চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ঘিরে ক্ষোভের আবহে কেন্দ্রের এই তৎপরতা বিশেষ গুরুত্বপূর্ন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার প্রশ্নে এই দ্রুত পদক্ষেপ বিজেপির জন্য নির্বাচনী কৌশল হিসেবে তাৎপর্যপূর্ণ। এখন নজর, প্রশাসনিক কমিটিগুলি কত দ্রুত কাজ এগিয়ে নিতে পারে এবং ভোটের আগে কতজন মতুয়া ভোটারের সমস্যার সমাধান হয়।


