Aaj India Desk, কলকাতা : বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বাড়ছে ক্ষোভ। এবার অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে দলেরই নির্বাচনী পরামর্শদাতা সংস্থা I-PAC।
একাধিক অভিযোগের তালিকা
পূর্বস্থলী উত্তর থেকে এবার তৃণমূলের প্রার্থী করা হয়েছে বসুন্ধরা গোস্বামীকে। টিকিট না পেয়ে ক্ষুব্ধ বিদায়ী বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায় দাবি করেছেন, তাঁকে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা দিতে বলা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, যাঁরা টাকা দিতে পেরেছেন, তাঁরাই টিকিট পেয়েছেন। বেশ কিছুকাল আগে তৃণমূল মন্ত্রী মদন মিত্রও আইপ্যাকের (I-PAC) বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছিলেন। তিনি আইপ্যাককে ‘এজেন্সি’ বলে উল্লেখ করে তৃণমূলের অন্দরে টাকা তোলার জন্য সরাসরি দায়ী করেছিলেন। রাজগঞ্জের চার বারের বিধায়ক তথা জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান খগেশ্বর রায়ও টিকিট না পাওয়ার পর একই ধরনের অভিযোগ করেন। “টাকার কাছে হেরে গেলাম“ বলে বিস্ফোরক মন্তব্যও করেন তিনি।
কেনো নীরব তৃনমূল সুপ্রিমো ?
বারবার একই ধরনের অভিযোগ সামনে এলেও নীরব তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। দলের ভেতরে ক্ষোভ বাড়তে থাকলেও এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনও ব্যাখ্যা দেয়নি নেতৃত্ব। ক্যানিং পূর্ব, আমডাঙা, মন্তেশ্বর সহ একাধিক কেন্দ্রে প্রার্থী পরিবর্তন বা টিকিট বঞ্চনাকে কেন্দ্র করে দলীয় অন্দরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে আইপ্যাককে (I-PAC) ঘিরে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ বিষয়টিকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। একাধিক নেতার মুখে একই ধরনের অভিযোগ সামনে আসায় ঘটনার সত্যতা নিয়ে তৈরি হয়েছে জল্পনা। বিরোধী দলগুলির বক্তব্য, অভিযোগগুলি ভিত্তিহীন হলে তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে দলনেত্রীর তরফে স্পষ্টভাবে তা খণ্ডন করা উচিত ছিল। এই নীরবতার কারণেই অভিযোগে সত্যতা আছে বলে তাঁদের মত।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ ভিন্ন ব্যাখ্যাও দিচ্ছেন। তাঁদের মতে, নির্বাচনের মুখে এই ধরনের বিতর্কে সরাসরি প্রতিক্রিয়া না দিয়ে পরিস্থিতি ঠান্ডা রাখার কৌশল নিতে পারে দল। প্রকাশ্যে মন্তব্য করলে বিতর্ক আরও বাড়তে পারে এবং তা নির্বাচনী প্রচারে প্রভাব ফেলতে পারে, এই আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
পাশাপাশি আইপ্যাক দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের নির্বাচনী কৌশলের সঙ্গে যুক্ত। ফলে হঠাৎ করে প্রকাশ্যে তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে তা সংগঠন ও প্রচার ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে। সেই কারণেও শীর্ষ নেতৃত্ব সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।
যদিও বিরোধীদের অভিযোগ, এই নীরবতা আসলে দায় এড়ানোর কৌশল। তাঁদের দাবি, একাধিক নেতা একই ধরনের অভিযোগ তুলছেন, অথচ কোনও অভ্যন্তরীণ তদন্ত বা প্রকাশ্য ব্যাখ্যা নেই। এতেই সন্দেহ আরও ঘনীভূত হচ্ছে। সব মিলিয়ে, নির্বাচনের আগে আইপ্যাককে ঘিরে ওঠা এই বিতর্ক এবং দলীয় নীরবতা এখন রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।


