Aaj India Desk, বীরভূম: ভারতের সংবিধানের মূল পাণ্ডুলিপিকে শৈল্পিক অলঙ্করণে সাজিয়েছিলেন যে কিংবদন্তি শিল্পী, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিষ্য, ভারতীয় চিত্রকলার ইতিহাসে উজ্জ্বল নাম নন্দলাল বসু -তাঁর নাতি সুপ্রবুদ্ধ সেন ও পুত্রবধূ দীপা সেনের নামই এবার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ায় তৈরি হয়েছে ক্ষোভের পরিবেশ।
জানা যাচ্ছে, ৮৮ বছর বয়সী সুপ্রবুদ্ধ সেন ও ৮২ বছর বয়সী দীপা সেনের নাম প্রথমে ‘বিচারাধীন’ তালিকায় রাখা হয়েছিল। পরে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে তাঁরা শুনানিতে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় সমস্ত নথিপত্র জমা দেন। সেই নথির মধ্যে ছিল বিশ্বভারতীর পাঠভবন থেকে পাওয়া শিক্ষাগত সনদ, পাসপোর্ট, নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র, চাকরিজীবনের নথি এবং পেনশন সংক্রান্ত কাগজপত্র। এত কিছুর পরেও শেষ পর্যন্ত তাঁদের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
এই প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে সুপ্রবুদ্ধ সেন জানান, শুধু শুনানিই নয়, নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা তাঁর বাড়িতে গিয়েও সমস্ত তথ্য যাচাই করে গিয়েছিলেন। সবরকম প্রমাণ জমা দেওয়ার পরেও কীভাবে তাঁদের নাম বাদ পড়ল, তার কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ তিনি খুঁজে পাচ্ছেন না। তিনি আরও দাবি করেন, তাঁর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী চক্রধর নায়েকের নামও তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
হতাশার সুরে সুপ্রবুদ্ধ বলেন, “আমি আর ভোট দেব না, জীবনে অনেকবার ভোট দিয়েছি।” তিনি আরও বলেন, “কীভাবে নাম বাদ গেল বুঝতে পারছি না। এসডিও-বিডিও অফিস থেকে লোকজন এসে সব তথ্য সংগ্রহ করে ডিএম-এর দপ্তরে জমা দিয়েছিল। তারপরই এই ঘটনা সামনে এল। অমর্ত্য সেন আমার আত্মীয়। তিনি হয়তো স্থায়ী বাসিন্দা নন বলে নাম বাদ যেতে পারে। কিন্তু আমি তো এখানকারই বাসিন্দা।”


