Aaj India Desk, কলকাতা : সম্প্রতি ভারতীয় জনতা পার্টি-র দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকায় উত্তর কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র শ্যামপুকুর থেকে প্রার্থী হিসেবে হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের (Hiran Chatterjee) নাম ঘোষণা হয়। তবে ভোট শুরু হওয়ার আগেই জিত নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হিরণের মন্তব্যে আবার শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
ফলের আগেই জয়ের বার্তা
প্রার্থী ঘোষণার পর একটি ফোনালাপে হিরণের প্রতিক্রিয়া ঘিরেই শুরু হয়েছে আলোচনা। তিনি সরাসরি জানান, এই মুহূর্তে শুভেচ্ছা গ্রহণ করতে পারবেন না। বরং ৪ মে ফল প্রকাশ এবং ৭ মে সম্ভাব্য শপথগ্রহণের দিন তিনি শুভেচ্ছা গ্রহণ করবেন বলে জানান। তাঁর কথায়, ওই দিনই রাজ্যে নরেন্দ্র মোদী-র নেতৃত্বে ‘সুশাসন’ প্রতিষ্ঠিত হবে।
নিরাপত্তা ইস্যুতে আক্রমণাত্মক সুর
এই মন্তব্যকে ঘিরে একাধিক প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে। শ্যামপুকুরের এলাকা ও ডেমোগ্রাফি না জেনেই এই আত্মবিশ্বাস শেষ পর্যন্ত হিরো হিরণকে (Hiran Chatterjee) কোন দিকে নিয়ে যাবে তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ভোটের আগে এই ধরনের নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করে বার্তা দেওয়া মূলত কর্মী-সমর্থকদের উজ্জীবিত করার কৌশল। নিরাপত্তা ইস্যুকেও তিনি নির্বাচনী প্রচারের কেন্দ্রে আনতে চান। তাঁর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গ-এ সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সাংবাদিক, কেউই নিরাপদ নন। এই বক্তব্যের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা প্রশ্নকে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে নিয়ে আসার চেষ্টা স্পষ্ট।
‘হিরো’ ইমেজে ধাক্কা?
তবে তাঁর এই আগ্রাসী অবস্থানের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দ্বিতীয় বিয়েকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। সেই প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের দাবি, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এবং বিতর্কিত ইমেজ মিলিয়ে তিনি ভোটারদের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা হারাতে পারেন।
টলিউড থেকে রাজনীতিতে আসা হিরণ চট্টোপাধ্যায় (Hiran Chatterjee) গত কয়েক বছরে বিজেপির এক পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন। তবে তাঁর বক্তব্যের ধরন ও রাজনৈতিক অবস্থান প্রায়শই বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এবার এই নতুন মন্তব্যে উঠে আসছে নতুন কটাক্ষ। টলিউডের ‘হিরো হিরণ’ কি রাজনীতিতেও শেষ পর্যন্ত হাসির খোরাক হয়ে উঠবেন? তার উত্তর মিলবে ভোটের ফল ঘোষণার পরই।


