Aaj India Desk, মুর্শিদাবাদ : বিধানসভা নির্বাচনের আবহে রাজ্য জুড়ে উত্তেজনা চরমে। এর মধ্যেই বহরমপুরে পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডে কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরীর (Adhir Chowdhury) নির্বাচনী প্রচারে বাধার ও ধস্তাধস্তির অভিযোগ ঘিরে তৈরি হলো নতুন বিতর্ক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে ২১ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচারে বেরিয়েছিলেন অধীর চৌধুরী (Adhir Chowdhury)। সেই সময় তৃণমূল কর্মীরা তাঁর পথরোধ করেন। ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সূত্রের খবর, অধীর চৌধুরী গাড়ি থেকে নামতেই স্লোগান দিতে শুরু করে তৃণমূল সমর্থকরা। এরপরই দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয় এবং তা দ্রুত ধস্তাধস্তিতে গড়ায়।
কংগ্রেসের অভিযোগ, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর ভীষ্মদেব কর্মকারের উপস্থিতিতেই কয়েকজন কংগ্রেস কর্মীকে মারধর করা হয়। কংগ্রেস নেতা আশুতোষ চ্যাটার্জি দাবি করেন, “অধীর চৌধুরীর জয়ের আশঙ্কাতেই তৃণমূল এই ধরনের কাজ করছে।”
তৃণমূলকে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি
অধীর চৌধুরী বলেন, “আমি প্রচারে বেরিয়েছিলাম। তৃণমূল কর্মীরা আমাকে ধাক্কাধাক্কি করেছে। এটা ওদের স্বভাব। আমাদের কর্মীদের কেউ মারলে আমরা চুপ করে থাকব না।” তবে তিনি এই ঘটনাকে বিশেষ গুরুত্ব না দিয়ে পরে ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচার চালিয়ে যান। পাশাপাশি তৃণমূলকে কটাক্ষ করে তিনি স্পষ্ট বলেন, “হাতি চালে বাজার, কুত্তা ভোকে হাজার। কুকুরা তো চেঁচাবেই। তৃণমূল যদি মনে করে রক্তারক্তি ছাড়া নির্বাচন হবে না, তাহলে রক্তারক্তি হবে।”
অভিযোগ অস্বীকার তৃনমূলের
অন্যদিকে পুরো অভিযোগ অস্বীকার করে ভীষ্মদেব কর্মকার বলেন, “আমরা প্রতিদিনের মতো প্রচারে ছিলাম। একই রাস্তায় কংগ্রেস প্রার্থীর মিছিল আসায় কেন্দ্রীয় বাহিনী আমাদের সরাতে চাইছিল। তখনই ধস্তাধস্তি হয়।” তাঁর আরও দাবি, বাইরে থেকে লোক এনে অশান্তি তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি জানান, এলাকার লোকই অধীর চৌধুরীকে গো ব্যাক স্লোগান দিয়েছে।
উল্লেখ্য, একই দিনে অন্য ওয়ার্ডেও অধীর চৌধুরীর (Adhir Chowdhury) প্রচারে বাধার অভিযোগ ওঠে। এছাড়া আগের দিনই অধীর চৌধুরীর বিরুদ্ধে ‘গো ব্যাক’ পোস্টার পড়েছিল এলাকায়। ফলে শনিবার সকালের এই ঘটনা নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়েছে বহরমপুরে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় টানটান উত্তেজনা বজায় রয়েছে।


