মুর্শিদাবাদ: বিধানসভা নির্বাচনে স্পর্শকাতর জেলা বলে চিহ্নিত মুর্শিদাবাদ। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত, বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এই জেলার বিভিন্ন জায়গায় জোরকদমে কর্মসূচী চালাচ্ছেন মমতা-অভিষেক (Abhishek Banerjee)। বিজেপি-তৃণমূল দ্বিমুখী সংঘাতের মধ্যে তৃতীয় শক্তি হিসেবে দাঁড়াতে চাইছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির সুপ্রিমো হুমায়ুন কবির।
ভরতপুরের বিদায়ী বিধায়ককে ‘গদ্দার’, ‘ভোট কাটুয়া’, ‘সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানো শক্তি’ ইত্যাদি নানান বিশেষণে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল। পাশাপাশি একসময় কংগ্রেসের অন্যতম দাপুটে নেতা লোকসভা ভোটে ইউসুফ পাঠানের কাছে হারের পর বিধানসভা নির্বাচনে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়েছেন। নামোল্লেখ করে এই দুজনকে ‘বিজেপির এজেন্ট’ তকমা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।
X Link: https://x.com/AITCofficial/status/2041104284293759433
সোমবার মুর্শিদাবাদের জলঙ্গীর সাদিখাঁরদিয়াড় বিদ্যানিকেতন গ্রাউন্ডের জনসভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “মুর্শিদাবাদ জেলায় ৩ টে এজেন্সিকে মোতায়েন করেছে বিজেপি। প্রথম এজেন্সি হল ভ্যানিশ কুমারের নির্বাচন কমিশন। যারা লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দিচ্ছে। দ্বিতীয় এজেন্সি কংগ্রেসের অধীর রঞ্জন চৌধুরী। যিনি প্রকাশ্যে ভোট ভাগ করছেন এবং তৃতীয় এজেন্সি হল হুমায়ুন কবির ও আসাদউদ্দিনের জোট। যারা খোলাখুলি সাম্প্রদায়িক অশান্তির সৃষ্টি করছে”।
‘সেটিং’-এর দাবী
অধীর-হুমায়ুনের সঙ্গে বিজেপির সেটিং কীভাবে হল, সেই নিয়ে অভিষেক (Abhishek Banerjee) দাবী করেন, “অমিত শাহের নিরাপত্তারক্ষী কোম্পানি এবং অধীর রঞ্জন চৌধুরী ও হুমায়ুন কবিরের নিরাপত্তারক্ষী কোম্পানি এক। তাঁদেরকে ইডি, সিবিআই ধরে না”। বলা বাহুল্য, গত বছর মুর্শিদাবাদের সুতি, সামশেরগঞ্জে ওয়াকফ সংশোধনী আইনের পর হিংসা, বাবা-ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় তৃণমূলের যথেষ্ট অস্বস্তি তৈরি হয়।
শুধু তাই নয়, চলতি বছরের গোড়ায় বেলডাঙায় পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু নিয়ে হিংসা, অশান্তির ঘটনায় ফের প্রশ্নের মুখে পরে রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা। অন্যদিকে, বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে ব্যাপক হাড়ে অনুপ্রবেশ ঘটছে বলে দাবী তুলে আসছে বিজেপি। এই আবহে মুর্শিদাবাদের মানুষের কাছে ‘বিজেপির এজেন্সি’ তত্ত্ব তুলে ধরলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।


