স্নেহা পাল, নন্দীগ্রাম: ডায়মন্ড হারবারের সাফল্যের পর এবার পূর্ব মেদিনীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রামে শুরু হচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) উদ্যোগে ‘সেবাশ্রয়’ মডেল স্বাস্থ্য শিবির। বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি থেকে নন্দীগ্রাম বিধানসভা এলাকায় প্রথম পর্যায়ে দুটি ব্লকে দুটি মডেল ক্যাম্প চালু হয়েছে। আজ দুপুরে সেই ‘সেবাশ্রয়’ (Sebaashray) ক্যাম্প পর্যবেক্ষণে নন্দীগ্রামে গিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
নন্দীগ্রামের ভূমিরক্ষা আন্দোলনে গুলিতে নিহত শহীদ পরিবারের সদস্যরাই এই দুই মডেল ক্যাম্পের উদ্বোধন করবেন। ১৫ জানুয়ারি থেকে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই স্বাস্থ্য শিবির। ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রে যেভাবে ‘সেবাশ্রয়’ (Sebaashray) কর্মসূচি চালু হয়েছিল, ঠিক সেই মডেলেই নন্দীগ্রামের খোদামবাড়ি হাইস্কুল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন মাঠে একটি ক্যাম্প করা হয়েছে। অন্য ব্লকেও একই ধাঁচে দ্বিতীয় ক্যাম্প চলছে।
তৃণমূল নেতা ঋজু দত্ত জানান, প্রতিটি মডেল ক্যাম্পে আইসিইউ পরিষেবা থাকবে। ইউএসজি, ইসিজি, এক্স-রে, রক্ত পরীক্ষা-সহ একাধিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। প্রয়োজনে সিটি স্ক্যানের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। রেফারেল সিস্টেম চালু থাকবে এবং প্রতিটি ক্যাম্পে অন্তত ১০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকবেন। প্রথম সাত দিন পর ফলো-আপ চিকিৎসার জন্য দুটি ক্যাম্পেই আলাদা রিভিউ বুথ চালু করা হবে।
প্রতিটি ক্যাম্পে স্বাস্থ্যকর্মী ও টেকনিশিয়ান মিলিয়ে ৫০–৬০ জন এবং রোগীদের সহায়তার জন্য শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক কাজ করবেন। একটি ক্যাম্পের দায়িত্বে রয়েছেন তৃণমূল নেতা ঋজু দত্ত এবং অন্যটির দায়িত্বে কলকাতা পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলার সুশান্ত ঘোষ।
ডায়মন্ড হারবারে চলমান ‘সেবাশ্রয়’ (Sebaashray) স্বাস্থ্য শিবিরে দক্ষিণ ২৪ পরগনা ছাড়াও একাধিক জেলা থেকে মানুষ চিকিৎসা নিতে আসছেন। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই নন্দীগ্রামের বহু বাসিন্দা একই ধরনের স্বাস্থ্য শিবিরের দাবি জানান। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব সেই আর্জি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) কাছে তুলে ধরেন। এরপরই নন্দীগ্রাম বিধানসভা এলাকায় এই কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) বিধানসভা কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই স্বাস্থ্য উদ্যোগ নিছক সামাজিক কর্মসূচি নয়, বরং রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে। এই কর্মসূচী যেন নন্দীগ্রামের জনগণের সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে বিজেপির ব্যর্থতাকেই প্রকট করে তুলছে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, দল ক্ষমতায় থাকুক বা না থাকুক, মানুষের পাশে থাকার নীতিতেই এই উদ্যোগ।
অন্যদিকে, বিজেপির একাংশের বক্তব্য, স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ার দায়িত্ব মূলত সরকারের। তাঁদের মতে, এই ধরনের শিবিরের আড়ালে রাজনৈতিক প্রচারের চেষ্টা হচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষের একাংশ বলছেন, রাজনৈতিক বিতর্ক যাই থাকুক, বিনামূল্যে আধুনিক স্বাস্থ্য পরিষেবা তাঁদের কাছে স্বস্তির।
সব মিলিয়ে, শহিদ স্মৃতি, জনস্বাস্থ্য এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, এই তিনের সংযোগে নন্দীগ্রামের ‘সেবাশ্রয়’ শিবির রাজ্য রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।


