Aaj India Desk, পুরুলিয়া : পুরুলিয়ার জয়পুর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির সাংসদ ও বিধায়ক থাকা সত্ত্বেও উন্নয়ন নেই কেনো সেই প্রশ্ন তুলে প্রচারে সরব হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি (Abhishek Banerjee)।
শুক্রবারে জয়পুরের সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এলাকায় বিজেপির সাংসদ ও বিধায়ক থাকলেও সাধারণ মানুষের উন্নয়নে তাদের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে। তাঁর দাবি, “ডাবল ইঞ্জিন” থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় স্তরে কোনও দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।তিনি দাবি করেন, তৃণমূল কংগ্রেস সরকারই এলাকায় প্রকৃত উন্নয়ন করেছে।
মাওবাদী অধ্যায়ের প্রসঙ্গ
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) বলেন, একসময় পুরুলিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা মাওবাদী প্রভাবাধীন ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। তাঁর কথায়, আগে থানায় তালা ঝুলত, আর এখন মানুষ রাতের দিকেও স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারছেন যা তিনি সরকারের বড় সাফল্য বলে দাবি করেন।
কুর্মালি ভাষা ও রাজনৈতিক অভিযোগ
কুর্মালি ভাষাকে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্তির দাবিকে কেন্দ্র করে চলা আন্দোলনের প্রসঙ্গও তোলেন তিনি।অভিষেকের অভিযোগ, নির্দল প্রার্থী বিশ্বজিৎ মাহাতোর পরিবার এই বিষয়ে কেন্দ্রের কাছে যথেষ্ট চাপ সৃষ্টি করেনি। তিনি দাবি করেন, রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই কেন্দ্রকে চিঠি পাঠিয়েছে। পাশাপাশি, অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের সময় এই ইস্যু তোলা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
উন্নয়নের পরিসংখ্যান তুলে ধরলেন অভিষেক
সভা থেকে বিভিন্ন প্রকল্পের উল্লেখ করে অভিষেক (Abhishek Banerjee) বলেন, জয়পুর এলাকায় রামকৃষ্ণ মহাতো সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, ঝালদা মডেল স্কুল, ২টি প্রাথমিক ও ৭টি উচ্চ প্রাথমিক স্কুল, ৫৫টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ৪টি সাঁওতালি স্কুল স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও কুর্মি সম্প্রদায়ের জন্য একটি বোর্ড গঠনের কথাও তিনি জানান।
বিড়ি শ্রমিকদের জন্য একটি হাসপাতাল তৈরির পরিকল্পনার কথাও তোলেন তিনি। অভিষেকের দাবি, জমি দেওয়া হলেও কেন্দ্রীয় সরকার উদ্যোগ নেয়নি। নির্বাচনের পর রাজ্য সরকার এই প্রকল্প বাস্তবায়নে এগোবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বক্তব্য মূলত নির্বাচনী কৌশলের অংশ বলেই রাজনৈতিক মহলের মত। পুরুলিয়ার জয়পুরে বিজেপির সাংসদ ও বিধায়ক থাকা সত্ত্বেও উন্নয়ন হয়নি, এই অভিযোগ তুলে তিনি “ডাবল ইঞ্জিন” তত্ত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চেয়েছেন এবং কেন্দ্রের ভূমিকাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছেন। একইসঙ্গে উন্নয়নের পরিসংখ্যান তুলে ধরে রাজ্য সরকারের কাজকে সামনে আনা এবং ভোটারদের মধ্যে আস্থা তৈরি করাই ছিল তাঁর লক্ষ্য। নির্দল প্রার্থী বিশ্বজিৎ মাহাতোকে আক্রমণ করে কুর্মি ভোটব্যাঙ্কে সম্ভাব্য বিভাজন ঠেকানোর ইঙ্গিতও স্পষ্ট। তবে এই বক্তব্য ভোটের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে সেটাই এবার দেখার।


