Aaj India Desk, কলকাতা: আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা নিয়ে সোমবার নির্বাচন কমিশনের (Election commission) ওপর চাপ বাড়াল তৃণমূল কংগ্রেস। বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (SIR) প্রক্রিয়ায় নিয়ম না মেনেই বহু বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করে তৃনমূল কংগ্রেস। এই পরিস্থিতিতে কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকে নিজেদের দাবি ও অভিযোগ তুলে ধরে শাসকদল।
রবিবার নির্বাচন প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে কলকাতায় পৌঁছেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনের (Election commission) ফুল বেঞ্চ। সোমবার কমিশনকে চিঠি দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করেছে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া আসলে গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর পরিকল্পিত আঘাত।
তৃণমূলের জমা দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংশোধিত তালিকা থেকে মোট ৬৩,৬৬,৯৫২ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। অথচ নাম বাদ দেওয়ার জন্য জমা পড়েছিল মাত্র ৪২,২৫১টি ফর্ম-৭ আবেদন। আবেদনের তুলনায় প্রায় ১৩ গুণ বেশি নাম বাদ পড়ার সন্তোষজনক ব্যাখ্যা এখনও পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ। এছাড়াও প্রায় ৬০ লক্ষ নাম এখনও ‘অ্যাডজুডিকেশন’ বা আইনি যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় ঝুলে রয়েছে বলেও দাবি করেছে তৃণমূল।
দলের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় তাদের বহু জনপ্রতিনিধির নামও সমস্যায় পড়েছে। তৃণমূলের দাবি অনুযায়ী, নৈহাটি পুরসভার কাউন্সিলর সুশান্ত সরকার ও তাঁর মায়ের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।
এছাড়া রাজ্যের মন্ত্রী গোলাম রব্বানি, আমডাঙার তিনবারের বিধায়ক রফিকুর রহমান, কুমারগঞ্জের বিধায়ক তোরাফ হোসেন মণ্ডল এবং চন্দিতলার বিধায়ক স্বাতী খন্দকারের নামও আইনি প্রক্রিয়ায় আটকে রয়েছে। বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ ও তাঁর মায়ের নাম নিয়েও অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছে তৃণমূল।
চিঠিতে তৃণমূল কমিশনের কাছে কয়েকটি নির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছে। ভোটার তালিকা সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আবার ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO) ও সহকারী ইআরওদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ডোমিসাইল সার্টিফিকেট, পঞ্চায়েত নথি এবং বিভিন্ন সরকারি আবাসন প্রকল্পের নথিকে বাসস্থানের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করার দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি ৬৩ লক্ষের বেশি নাম কেন বাদ পড়ল তার পূর্ণ ব্যাখ্যা এবং ঝুলে থাকা প্রায় ৬০ লক্ষ মামলার দ্রুত ও স্বচ্ছ নিষ্পত্তির দাবি জানানো হয়েছে।
তৃণমূলের অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা উপেক্ষা করে কখনও হোয়াটসঅ্যাপ বা মৌখিক নির্দেশের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই আচরণকে ‘অসাংবিধানিক’ বলে উল্লেখ করে বিষয়টি নিয়ে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছে তৃনমূল কংগ্রেস।
অন্যদিকে, সোমবার কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করে বিজেপিও নিজেদের দাবি তুলে ধরে। প্রায় আধ ঘণ্টার বৈঠকের পর বিজেপি জানায়, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সহিংসতামুক্ত ও ভয়মুক্ত করতে ১৬ দফা দাবি কমিশনের সামনে রাখা হয়েছে। ভোট যেন অতিরিক্ত বহু দফায় না হয় তা নিয়েও আর্জি জানায় বিজেপি। সাত-আট দফার পরিবর্তে সর্বোচ্চ এক বা দুই দফায় ভোটগ্রহণের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় সংবেদনশীল বুথ আগাম চিহ্নিত করার বিষয়েও কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিজেপি।
ইলেকশন কমিশনের (Election commission) ফুল বেঞ্চ বর্তমানে রাজ্যে নির্বাচন প্রস্তুতি নিয়ে রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছে। এই বৈঠকগুলির পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই আগামী বিধানসভা নির্বাচনের প্রশাসনিক পরিকল্পনা চূড়ান্ত হবে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে।


