Aaj India Desk, কলকাতা: নির্বাচনী লড়াইয়ে জিতে ফের ক্ষমতায় আসলে রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা কী? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে শুক্রবার বিকেলে ইস্তেহার প্রকাশ করল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC Manifesto)। সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ১০টি ‘প্রতিজ্ঞা’ তুলে ধরেন। ইস্তেহারের মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যুবকল্যাণ ও অর্থনৈতিক প্রণোদনার মতো প্রতিশ্রুতিগুলো।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এগুলো কতটা বাস্তবায়নযোগ্য এবং কতটা ভোট ব্যাংককে টার্গেট করে সাজানো হয়েছে, তা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রইল। কিছু সমালোচক মনে করছেন, বিশেষ করে যুবকল্যাণ ও ভাতা সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি গুলো নির্বাচনী চাপ তৈরি করতে এবং ভোটারের মনোযোগ আকর্ষণ করতে উদ্দীপ্ত। অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে বলেছে, এই প্রতিশ্রুতিগুলো জনসাধারণের কল্যাণেই নেওয়া হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের ইস্তেহারে প্রধান প্রতিশ্রুতিগুলো
1. মহিলাদের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা:
‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প চালু রেখে মা-বোনেদের স্বনির্ভর করার প্রতিশ্রুতি। মাসিক সহায়তা বৃদ্ধি করে সাধারণ মহিলারা ১,৫০০ টাকা এবং তফসিলি জাতি/জনজাতি মহিলারা ১,৭০০ টাকা পাবেন।
2. যুবদের পাশে আর্থিক সহায়তা ও কর্মসংস্থান:
‘বাংলার যুব-সাথী’ প্রকল্পের মাধ্যমে বেকার যুবক-যুবতীদের মাসে ১,৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি। পাশাপাশি কর্মসংস্থান তৈরিতে সরকারের উদ্যোগ।
3. কৃষি ও কৃষকের কল্যাণ:
ভূমিহীন ও ক্ষুদ্র কৃষকসহ সব কৃষক পরিবারকে সমর্থন দিতে ৩০,০০০ কোটি টাকার বিশেষ ‘কৃষি বাজেট’ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি।
4. নিরাপদ ও পাকা বাসস্থান:
বাংলা আবাস যোজনা প্রকল্পের মাধ্যমে ১ কোটি ২০ লক্ষ বাড়ি নির্মাণের পাশাপাশি বাকি কাঁচা বাড়িগুলোও পাকা করা হবে।
5. সকলের জন্য পরিষ্কার পানীয় জল:
নির্বাচনের পরে রাজ্যের প্রতিটি ঘরে পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার। বর্তমানে কয়েক কোটি মানুষের জন্য পরিষেবা সরবরাহ ইতিমধ্যেই চালু।
6. নতুন মডেলের স্কুল ও শিক্ষক নিয়োগ:
রাজ্যজুড়ে কয়েক হাজার সরকারি স্কুল নতুন মডেলে গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি শিক্ষার মান বাড়াতে নতুন শিক্ষক নিয়োগের প্রতিশ্রুতি।
7. বাংলাকে বাণিজ্যের দিশারী:
পূর্ব ভারতের বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে বাংলাকে গড়ে তোলার অঙ্গীকার। বিশ্বমানের লজিস্টিকস, আধুনিক বন্দর, বাণিজ্যিক পরিকাঠামো এবং গ্লোবাল ট্রেড সেন্টার তৈরি করে বিনিয়োগ ও ব্যবসার জন্য রাজ্যকে আকর্ষণীয় গন্তব্য করা হবে।
8. প্রবীণদের যত্ন ও সুরক্ষা:
সব যোগ্য প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বার্ধক্য ভাতা নিশ্চিত করা হবে। ধাপে ধাপে এই সুবিধার পরিধি সম্প্রসারিত করে রাজ্যের সকল উপভোক্তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
9. নিবিড় প্রশাসন ও ভৌগোলিক পুনর্গঠন:
সাধারণ মানুষের কাছে প্রশাসন আরও ঘনিষ্ঠভাবে পৌঁছানোর জন্য ৭টি নতুন জেলা গঠনের পাশাপাশি পুরসভার সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে।
ইস্তেহার (TMC Manifesto) প্রকাশের আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) রাজ্যের কিছু আমলা ও পুলিশ কর্মকর্তাদের বদলি নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে সরাসরি আক্রমণ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, কার্যত ‘প্রেসিডেন্ট রুল’ জোর করে চালু করা হয়েছে। মমতার ভাষায়, ‘বাংলা বাঁচাতে হলে সবাইকে এক সঙ্গে থাকতে হবে। কেন্দ্রীয় এজেন্সির ভয় দেখানোতে কান দেবেন না।’ সেখানে থামেননি তিনি। মমতার নিশানায় এবার বিজেপিও।
নির্বাচনের আগে ভোটে জেতার জন্য বিজেপি টাকা, অস্ত্র ও প্রলোভন ব্যবহার করবে, তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। মমতার কথায়, ‘টাকার প্রলোভনে পা দেবেন না। আইএএস-আইপিএস বদলানো হচ্ছে, সীমান্ত দিয়ে টাকা ঢুকছে। বন্দুক, মাফিয়া টাকা সবই ভোটে জেতার চক্রান্ত। ইতিমধ্যেই জোর করে রাষ্ট্রপতি শাসন চালু হয়েছে। বাংলার মানুষ আঘাত পেলে তারা প্রতিশোধ নিতে জানে।’
নির্বাচন সামনে রেখে এই আক্রমণ ও অভিযোগ রাজনৈতিক নাটকের স্বাদ দিচ্ছে। মমতার অভিযোগ সত্য হোক বা না হোক, এটি স্পষ্ট যে নির্বাচনী চাপে রাজনীতিকে আবারও ভয়, বিতর্ক ও উত্তেজনার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ভোটারদের উচিত সাবধান দৃষ্টি রাখা এবং সরাসরি প্রতিশ্রুতি ও প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার করা।


