Aaj India Desk, উত্তর দিনাজপুর : ভোটের অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়েই যেন থমকে গেল এক সংসারের স্বাভাবিক ছন্দ। বাড়ির উঠোনে শুরু হয়েছিল যে পোস্টাল ব্যালটের (Postal Ballot) প্রক্রিয়া, কিছুক্ষণের মধ্যেই তা রূপ নেয় মৃত্যুর শবযাত্রায়। রায়গঞ্জের এই ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। ঘটনার ফলে সমাজ মাধ্যমেও নিয়ম প্রয়োগের কঠোরতা ও মানবিক সংবেদনশীলতার মধ্যে সীমারেখা ঠিক কোথায় টানা উচিত তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
শারীরিকভাবে অক্ষমদের বাড়িতে গিয়ে পোস্টাল ভোট
রায়গঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের মারাইকুড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ভিটি এলাকার ৬১ নম্বর বুথে এই ঘটনা ঘটে। নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের কর্মীরা কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে প্রবীণ ও শারীরিকভাবে অক্ষম ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে পোস্টাল ভোটগ্রহণ (Postal Ballot) শুরু করেন। স্থানীয় বাসিন্দা কালু শেখের বাড়িতে ভোটগ্রহণের সময় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। পরিবারের দাবি, দৃষ্টিশক্তি কম এবং শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি একা ভোট দিতে সক্ষম নন। তাই তাঁর মেয়ে জাহিদা খাতুন সঙ্গে থাকার অনুরোধ জানান।
নিয়ম নিয়ে বচসা
নির্বাচনকর্মীরা জানিয়ে দেন, নিয়ম অনুযায়ী শুধুমাত্র প্রিসাইডিং অফিসারই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় থাকবেন, পরিবারের কাউকে উপস্থিত থাকতে দেওয়া যাবে না। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়।পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে উত্তেজনা আরও বাড়ে। পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং স্থানীয়দের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়।
অসুস্থ হয়ে মৃত্যু বৃদ্ধার
এই উত্তেজনার মধ্যেই কালু শেখের স্ত্রী তফিজান বিবি (৭৫) হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। দ্রুত তাঁকে রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মৃতার মেয়ে জাহিদা খাতুন অভিযোগ করেন, “নির্বাচন কমিশনের কর্মীদের জন্যই আমার মায়ের মৃত্যু হয়েছে। বাবার পাশে থাকতে চাইলে আমাদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং গ্রেপ্তারের হুমকি দেওয়া হয়। সেই সময়ই মা অসুস্থ হয়ে পড়েন।”
রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা চরমে ওঠে। ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা নির্বাচনকর্মীদের আটকে রেখে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
প্রথম দফার ভোটের আগে পোস্টাল ব্যালোটেই (Postal Ballot) রায়গঞ্জের এই ঘটনা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, মানবিকতা এবং প্রশাসনিক সংবেদনশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সব মিলিয়ে ভোটারদের আস্থা বজায় রাখা এখন কমিশনের কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি প্রশাসনের আরও সতর্ক ও মানবিক ভূমিকা প্রয়োজন বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


