স্নেহা পাল, রাজস্থান: গত বছর মেঘালয়ের (Meghalaya) পাহাড়ে হানিমুনে গিয়ে যে খুন দেশজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি করেছিল, তার স্মৃতি এখনও ফিকে হয়নি। প্রেমিকের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে স্বামী হত্যার অপরাধের সেই ছকই এবার ফিরে এল রাজস্থানের (Rajasthan) শ্রীগঙ্গানগরে।
রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগরে ৩০ জানুয়ারি রাতে ডিনারের পর হাঁটতে বেরিয়ে খুন হন ২৫ বছরের আশিস কুমার। তারপরেই তাঁর দেহ উদ্ধার হয় এক নির্জন রাস্তায়। প্রথমে ঘটনাটি হিট-অ্যান্ড-রান দুর্ঘটনা বলে দাবি করেন তাঁর স্ত্রী অঞ্জলি। (Rajasthan Murder case)
মিথ্যে ফাঁস ফরেনসিকে
কিন্তু ময়নাতদন্তে দেখা যায়, আশিসকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়েছে এবং পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। গাড়ি দুর্ঘটনার কোনও চিহ্ন মেলেনি। এখান থেকেই তদন্তের মোড় ঘোরে। পুলিশ জানায়, জেরার সময় অঞ্জলি বারবার নিজের বক্তব্য বদলাচ্ছিলেন যার ফলে তাদের সন্দেহ আরোও তীব্র হয়।
প্রেমিকের সঙ্গে খুনের পরিকল্পনা
তদন্ত করে পুলিশ জানায়, অঞ্জলির সঙ্গে তার প্রেমিক সঞ্জয় ওরফে সানজুর সম্পর্ক ছিল প্রায় সাত বছরের। সঞ্জয় পেশায় বিয়ে ও অনুষ্ঠানবাড়িতে কাজ করা একজন ওয়েটার। পরিবার বিষয়টি জানলেও তারা তিন মাস আগে অঞ্জলির বিয়ে দেন আশিসের সঙ্গে। বিয়ের পর থেকেই অঞ্জলি এই সম্পর্কে অসন্তুষ্ট ছিলেন। তিনি নিজের বাড়ি সদুলশহরে ফিরে গিয়ে পুরনো প্রেমিক সঞ্জয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সেখানেই খুনের পরিকল্পনা হয়।
৩০ জানুয়ারি রাতে অঞ্জলি ইচ্ছাকৃতভাবে আশিসকে এক নির্জন পথে হাঁটতে নিয়ে যান। আগে থেকেই ঝোপে লুকিয়ে ছিল সঞ্জয় ও তার দুই সহযোগী রোহিত এবং বাদল। অঞ্জলির ইশারায় তারা আশিসের উপর হামলা চালায়। মৃত্যু নিশ্চিত করতে পরে শ্বাসরোধ করা হয়।
তদন্তকারীদের মতে, ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা ও ছিনতাই হিসেবে দেখাতে অঞ্জলি নিজেই আশিসের মোবাইল ফোন ও নিজের কানের দুল হামলাকারীদের হাতে তুলে দেন এবং পরে অচেতন থাকার ভান করেন।
গ্রেপ্তার চার অভিযুক্ত
শ্রীগঙ্গানগরের পুলিশ সুপার জানান, ৩ ফেব্রুয়ারি চার অভিযুক্তকেই গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযুক্ত তিন পুরুষকে পুলিশ হেফাজতে এবং অঞ্জলিকে রিমান্ডে পাঠানো হয়।
এই ঘটনায় আবার উঠে আসছে গত বছরের মেঘালয় হানিমুন মার্ডার কেস। সেখানেও একইভাবে স্ত্রী সোনম রঘুবংশী প্রেমিকের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে স্বামী রাজা রঘুবংশীকে হত্যা করেছিলেন। দুই ক্ষেত্রেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে ব্যবহার করে খুনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের মত।
উল্লেখ্য, জাতীয় অপরাধ নথি ব্যুরোর (NCRB) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ভারতে প্রায় ২৮,০০০ খুনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১,৩৫০টি ঘটনার সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের যোগ পাওয়া গেছে।


