কলকাতা: দেশনায়ক নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর প্রপৌত্র। তবুও তাঁকে দিতে হয়েছে নাগরিকত্বের প্রমাণ। ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় শুনানির নোটিশ পেয়েছিলেন তিনি। সেইসময় ক্ষোভ উগড়ে চন্দ্র বসু (Chandra Bose) বলেছিলেন, “আমি নেতাজির প্রপৌত্র। আমাকে নাগরিকত্বের প্রমাণ দেখাতে হবে? কোন পথে এগোচ্ছে ভারত?”
এরপর মার্চ মাসের শেষের দিকে খোলাখুলিই বলে দেন, বিজেপিতে যোগ দেওয়া তাঁর জীবনের ঐতিহাসিক ভুল ছিল। ২০১৬ সালে যোগ দিয়ে ২০২৩-এই অবশ্য পদ্ম শিবির ত্যাগ করেছিলেন চন্দ্র বসু। তবে এসআইআরের পর বিজেপির বিরুদ্ধে তাঁর ক্ষোভ ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হয়। আর আজ ভোটের ঠিক দিঙ্কয়ক আগে আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল ভবনে দলীয় পতাকা তুলে নিলেন নেতাজি সুভাষ ভন্দ্র বসুর প্রপৌত্র চন্দ্র বসু (Chandra Bose)। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং সাংসদ কীর্তি আজাদ তাঁর হাতে তৃণমূলের দলীয় পতাকা তুলে দেন।
ভবানীপুরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন চন্দ্র বসু
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে বিজেপিতে যোগ দিয়ে ভবানীপুরে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন চন্দ্র বসু (Chandra Bose)। এরপর ২০১৯-এ লোকসভা ভোটে দক্ষিণ কলকাতা থেকে লড়েন তিনি। তবে জয়ের মুখ কনবারেই দেখেননি নেতাজি-প্রপৌত্র। এরপর থেকেই বিজেপির সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে থাকে। অবশেষে ২০২৩-এ আনুষ্ঠানিকভাবে গেরুয়া শিবির ত্যাগ করেন তিনি।
তৃণমূলে যোগ দিয়ে কি বললেন চন্দ্র বসু?
এদিন ফের তাঁকে বলতে শোনা যায়, “বিজেপিতে যোগ জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল”। চন্দ্র বসুর অভিযোগ, “ওরা ভারতের সংবিধানের বিরোধিতা করে।” তাঁর মতে, বিভাজনের রাজনীতির মোকাবিলায় এই মুহূর্তে নেতাজির ‘ভারতবর্ষ’-এর ধারণাই সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক।
চন্দ্র বসু জানান, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর বাংলার উন্নয়ন নিয়ে তিনি একাধিক প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু সেগুলির কোনোটিই গৃহীত হয়নি। তিনি আরও বলেন, “শরৎচন্দ্র বসু ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর আদর্শই আমার রাজনীতির ভিত্তি। বিজেপি আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।” তবে ঘাসফুল শিবিরে কি কাঙ্খিত রাজনৈতিক অধ্যায় শুরু করতে পারবেন, না-কি ফের মোহভঙ্গ হবে চন্দ্র বসুর (Chandra Bose)? তার উত্তর সময় দেবে।


