34 C
Kolkata
Monday, April 13, 2026
spot_img

তৃনমূলের ‘গুন্ডারাজ’কে ‘টাটা বাই’ ডাক : ভোটের আগে কড়া বার্তা শাহের !

Aaj India Desk, বীরভূম : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বীরভূমে একাধিক সভা করে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। সাথে দুর্নীতি, আইনশৃঙ্খলা, অনুপ্রবেশ ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে তিনি তৃনমূলের ‘গুন্ডারাজ’ নিয়ে কড়া বার্তা দেন।

তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

সোমবার বোলপুর ও খয়রাশোলে সভা করেন অমিত শাহ (Amit Shah)। এরপর পশ্চিম বর্ধমানেও তাঁর সভা ও রোড শো করার কর্মসূচি রয়েছে। প্রচার মঞ্চ থেকে তিনি ভোটারদের উদ্দেশে আহ্বান জানান, নির্দিষ্ট দিনে ভোট দিয়ে পরিবর্তনের বার্তা দিতে। শাহ তাঁর ভাষণে একাধিক ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। শিক্ষক নিয়োগ, রেশন, ১০০ দিনের কাজ (MNREGA) এবং প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, “শুধু মোদীজিই এই দুর্নীতি বন্ধ করতে পারেন।”

নারী নিরাপত্তা নিয়ে প্রতিশ্রুতি

একই সাথে রাজ্যে ‘গুন্ডারাজ’ চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ২০২১ সালের নির্বাচনের পর বিজেপি কর্মীদের উপর অত্যাচারের কথাও তুলে ধরেন। একইসঙ্গে বলেন, “৪ মে-র পর দুষ্কৃতীদের খুঁজে বের করে জেলে পাঠানো হবে।” এছাড়া ইউনিফর্ম সিভিল কোড চালুর কথাও উল্লেখ করেন অমিত শাহ (Amit Shah)। নারী নিরাপত্তা প্রসঙ্গে আরজি কর মামলা টেনে এনে তিনি বলেন, রাজ্যে এমন পরিবেশ তৈরি করা হবে যাতে “মেয়েরা রাত ১টাতেও নিরাপদে বেরোতে পারে।” আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনে কঠোরতা আনার আশ্বাস দেন তিনি।

বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাস্তব পরিস্থিতি

তবে এই প্রতিশ্রুতি আদৌ ভোটের ময়দানে কার্যকর হবে কিনা তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। বিজেপি শাসিত একাধিক রাজ্যেও নারী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় সেই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। পরিসংখ্যান ও ঘটনাপ্রবাহের ভিত্তিতে বিরোধীরা অভিযোগ করছে, আইনশৃঙ্খলা ও মহিলাদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে সর্বত্র সমান উন্নতি হয়নি। ফলে নির্বাচনী প্রচারে করা এই ধরনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েই এখন রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

সব মিলিয়ে, নির্বাচনের মুখে রাজনৈতিক বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্যে উত্তাপ বাড়ছে রাজ্যে। একদিকে উন্নয়ন ও কঠোর প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে সেই দাবির বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন—এই দ্বৈত বয়ানই এখন ভোটের কেন্দ্রবিন্দুতে। শেষ পর্যন্ত কোন বার্তা ভোটারদের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য হবে, তা জানা যাবে ভোটের ফলাফলের দিন।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন