Aaj India Desk, কলকাতা: কলকাতায় হৃদ্রোগ চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। সাত বছর আট মাস ধরে হৃদ্যন্ত্রে স্থাপিত একটি লিডলেস পেসমেকার (Leadless Pacemaker) সফলভাবে অপসারণ করল কলকাতার বিএম বিড়লা হার্ট হাসপাতাল। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এত দীর্ঘ সময় পর লিডলেস পেসমেকার রিট্রিভালের এটাই প্রথম নথিভুক্ত ঘটনা।
হাসপাতালের ডিরেক্টর অব কার্ডিওলজি ডা. অনিল মিশ্রের নেতৃত্বে এই জটিল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। সংশ্লিষ্ট পেসমেকারটি ২০ জুন ২০১৮ সালে প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এ তা অপসারণ করা হয়। মোট ২৮০১ দিন ডিভাইসটি হৃদ্যন্ত্রে কার্যকর ছিল।
রোগীর জটিল কার্ডিয়াক ইতিহাস
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রোগীর দীর্ঘ কার্ডিয়াক ইতিহাস ছিল। পূর্বে করোনারি ইন্টারভেনশন ও বাইপাস সার্জারি হয়। ২০১৮ সালে প্রথমে একটি প্রচলিত পেসমেকার বসানো হলেও সংক্রমণের জন্য তা অপসারণ করতে হয়। সেই সময়েই ডান ভেন্ট্রিকলের নিম্ন সেপ্টাল অঞ্চলে লিডলেস পেসমেকার (Leadless Pacemaker) বসানো হয়। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ডিভাইসটি ইলেকটিভ রিপ্লেসমেন্ট ইন্ডিকেটরে (ERI) পৌঁছায়।
অপসারণের কৌশলে সফল প্রক্রিয়া
তবে চিকিৎসক দল সিদ্ধান্ত নেন, পুরনো ডিভাইসটি রেখে নতুনটি বসানোর পরিবর্তে অপসারণের চেষ্টা করা হবে। দীর্ঘমেয়াদে একাধিক লিডলেস ডিভাইস হৃদ্যন্ত্রে রাখার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর বাম সাবক্লাভিয়ান রুট দিয়ে অস্থায়ী পেসিং সাপোর্টের ব্যবস্থা করে একবারের চেষ্টায় ডিভাইসটি নিরাপদে বের করা হয়। পরে একই স্থানে নতুন সিঙ্গল-চেম্বার VVIR লিডলেস পেসমেকার প্রতিস্থাপন করা হয়।
এশিয়ায় নজিরবিহীন ঘটনা
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এতদিন যে সব রিট্রিভাল হয়েছে, তার অধিকাংশই প্রতিস্থাপনের কয়েক দিন থেকে দুই-চার বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ভারতে এক সপ্তাহের বেশি সময় পর সফল অপসারণের নথিভুক্ত উদাহরণ আগে ছিল না বলে হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিকভাবে দীর্ঘমেয়াদি লিডলেস পেসমেকার (Leadless Pacemaker) অপসারণের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ ছিল চেক প্রজাতন্ত্রের চিকিৎসক ডা. পেত্র নেউজিলের ক্ষেত্রে। তাঁর ক্ষেত্রে ৯ ডিসেম্বর ২০১৪-তে প্রতিস্থাপিত ডিভাইস ২৯ মার্চ ২০২২-এ, মোট ২৬৫৭ দিন পর অপসারণ করা হয়। কিন্তু কলকাতার এই ঘটনায় তার থেকেও আরো ১৪৪ দিন বেশি সময় ধরে পেসমেকারটি রোগীর শরীরে ছিল।
সব মিলিয়ে দীর্ঘমেয়াদি লিডলেস ডিভাইস ব্যবস্থাপনায় নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে এই ঘটনা। কলকাতার মাটিতে চিকিৎসাবিদ্যার সাফল্যে যুক্ত হল আর এক উল্লেখযোগ্য অধ্যায়, যা ভবিষ্যতে জটিল কার্ডিয়াক ডিভাইস ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসকদের সামনে নতুন আস্থা ও দিকনির্দেশনা দিতে পারে বলে হাসপাতালের মত।


