Aaj India Desk, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে রেশন দুর্নীতি মামলায় ফের সক্রিয় হয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। শুক্রবার ভোরে কলকাতাসহ রাজ্যের মোট ১২টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালায় তদন্তকারী সংস্থা। একই সঙ্গে একাধিক তৃণমূল প্রার্থীকে সমন পাঠানোয় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়।
১২ জায়গায় তল্লাশি অভিযান
ED সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকালে সিজিও কমপ্লেক্স থেকে একাধিক দল বেরিয়ে কলকাতা, বনগাঁ, মুর্শিদাবাদ এবং হাওড়ার বিভিন্ন ঠিকানায় পৌঁছায়। ব্যবসায়ীদের বাড়ি ও দফতরে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তদন্তে উঠে আসা ব্যবসায়ী বসন্ত কুমার শরাফের নামের ভিত্তিতে তার বাড়িতেও হানা দেয় ইডি। রেশন সামগ্রী কীভাবে পাচার হয়েছে এবং এর সঙ্গে প্রভাবশালী কারও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রেশন দুর্নীতি মামলায় ২০২৩ সালে গ্রেফতার হয়েছিলেন প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। তদন্তে কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তুলে চার্জশিট জমা দেয় ইডি। ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি তিনি জামিনে মুক্তি পান। বর্তমান নির্বাচনে হাবরা কেন্দ্র থেকে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন তিনি। সম্প্রতি তার সমর্থনে প্রচারে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, “প্রমাণ ছাড়াই তাকে ফাঁসানো হয়েছে।”
একাধিক তৃনমূল কর্মীকে তলব
অন্যদিকে, পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুকে তৃতীয়বারের জন্য তলব করেছে ED। শনিবার তাকে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, আগের দু’বার প্রচারের ব্যস্ততার কারণে তিনি হাজিরা দেননি। বৃহস্পতিবার তিনি চিঠি দিয়ে ‘হয়রানির’ অভিযোগও করেন। জমি দখল সংক্রান্ত মামলায় রথীন ঘোষ ও দেবাশিস কুমারকেও তলব করেছে ইডি। তবে নির্ধারিত দিনে কেউই হাজির হননি বলে জানা গিয়েছে।
ভোটের আগে ধারাবাহিকভাবে তৃণমূল প্রার্থীদের তলব নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে। কেন শুধুমাত্র শাসক দলের নেতাদেরই ডাকা হচ্ছে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তৃণমূল বরাবরই অভিযোগ করে আসছে যে কেন্দ্রের সংস্থাগুলোকে বিশেষ করে ভোটের আগে চাপ তৈরি করতে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। যদিও ইডি দাবি করছে, বেআইনি অর্থ উদ্ধারে তারা নিরপেক্ষভাবে অভিযান চালাচ্ছে এবং ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জায়গা থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ উদ্ধার হয়েছে।


