স্নেহা পাল, দিল্লি : T20 বিশ্বকাপের মুখোমুখি এসে ভারতের সাথে নির্ধারিত ম্যাচ খেলতে অস্বীকার করে PCB। এবার তা নিয়েই নতুন ঝামেলার মুখোমুখি PCB।
পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে বড়সড় আর্থিক জরিমানার মুখে পড়তে পারে PCB। ICCর বর্তমান আর্থিক চক্রে PCBর মোট প্রাপ্য প্রায় ১৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার মধ্যে বছরে গড়ে প্রায় ৩৮ মিলিয়ন ডলার করে পায় তারা। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে এই অর্থের প্রায় ৪০ বিলিয়ন ঝুঁকির মুখে পড়বে।
আর্থিক ক্ষতিতে জর্জরিত
ইতিমধ্যেই ২০২৪ T20 বিশ্বকাপ এবং গত বছর পাকিস্তানে আয়োজিত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি থেকে ICCর কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য অর্থ পেয়েছে PCB। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি আয়োজন করে প্রায় ৬ মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত আয় হলেও, স্টেডিয়াম সংস্কার ও আয়োজনে ব্যয় হয় বিপুল। লাহোর, করাচি এবং রাওয়ালপিন্ডির তিনটি স্টেডিয়াম উন্নয়নে প্রায় ১৮ বিলিয়ন রুপি খরচ হয়।
সূত্র অনুযায়ী, চলতি T20 বিশ্বকাপ ও আগামী ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ থেকে PCBর যে অর্থ এখনও পাওয়া বাকি, সেখানে ICC আর্থিক জরিমানা আরোপ করতে পারে। অংশগ্রহণকারী দেশগুলির চুক্তি (Participating Nations Agreement) অনুযায়ী, বৈধ ‘ফোর্স মেজর’ কারণ না থাকলে আইসিসি ও সম্প্রচারকারীরা ক্ষতিপূরণ দাবি করতেই পারে।
সম্প্রচারকারীদের চাপে ICC
বর্তমান আইসিসি চক্রে সম্প্রচার স্বত্বের জন্য প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে সম্প্রচার সংস্থাগুলি। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ থেকে প্রতিটি খেলায় আনুমানিক ২৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় হয় বলে অনুমান। চারটি আইসিসি টুর্নামেন্টে মোট চারটি ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ থেকে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার আয় করা হয়। এই ম্যাচগুলো না হলে সদস্য দেশগুলির রাজস্ব বণ্টনও কমে যেতে পারে।
আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় নির্ধারিত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা কাটেনি। ১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান সরকার ঘোষণা করে, সালমান আলি আগার নেতৃত্বাধীন দল ভারতের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে না। এই সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক কারণ প্রকাশ করা হয়নি।
আলোচনার পরামর্শ মানির
এরই মধ্যে ICC এর প্রাক্তন সভাপতি ও PCB প্রাক্তন চেয়ারম্যান এহসান মানি বলেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে আইসিসি চেয়ারম্যান জে শাহের পাকিস্তান সরকার ও পিসিবির সঙ্গে আলোচনায় বসা উচিত। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, তাঁর সময়ে ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল।
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে তৈরি এই অচলাবস্থা শুধু ক্রীড়াক্ষেত্রেই নয়, আইসিসির আর্থিক কাঠামো এবং পিসিবির ভবিষ্যৎ অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


