Aaj India Desk, কলকাতা: আশা ভোঁসলে (Asha Bhosle)-এর প্রয়াণে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে শিল্পী মহলে। প্রবীণ সঙ্গীতশিল্পী হৈমন্তী শুক্লা (Haimanti Sukla) থেকে শুরু করে অনুপম রায় (Anupam Roy), রাঘব চট্টোপাধ্যায় (Raghav Chatterjee)-সহ বহু বিশিষ্ট শিল্পী তাঁদের শোকবার্তা জানিয়েছেন। প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ও (Prosenjit Chatterjee)।
কিংবদন্তি শিল্পীর মৃত্যুতে আবেগাপ্লুত হয়ে হৈমন্তী শুক্লা বলেন, “এই ধরনের ক্ষতির মুহূর্তে সত্যিই কিছু বলার ভাষা থাকে না। জানি, তাঁর ৯২ বছর বয়স হয়েছিল, তবু এই শূন্যতা মেনে নেওয়া কঠিন। তবে তাঁর গান যুগের পর যুগ বেঁচে থাকবে। অসাধারণ বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন তিনি, মানুষ হিসেবেও ভীষণ ভালো। বোম্বেতে আমার সঙ্গে দু-একবার দেখা হয়েছিল। একটা ঘটনার কথা বারবার মনে পড়ছে-একটি বাংলা ছবির গানের রেকর্ডিংয়ের সময় আমার অংশ শেষ হয়ে গিয়েছিল। তিনি আসবেন শুনে আমি সরে যেতে চাইছিলাম, কিন্তু তিনি নিজে আমার হাত ধরে আমাকে তাঁর পাশে বসান। তারপর রবিদাকে জিজ্ঞেস করলেন কে গাইছেন এই গানটা ? ঘরে না রাস্তায় ? বলল, না গাড়িতে। তারপর জানতে চাইলেন, কে পাশে বসে আসে, ড্রাইভার ? সেই ড্রাইভার কি ওনার হিরো ? এরপর সুরকারকে নানা খুঁটিনাটি জিজ্ঞেস করে পুরো পরিস্থিতি বুঝে নিয়ে এক টেকেই গানটি রেকর্ড করেন। মনে হয়েছিল যেন উনি সত্যিই কোন গাড়িতে বসে গাইছেন। এমন প্রতিভার বর্ণনা করাও যেন কঠিন। ক্লাসিক্যাল সঙ্গীতে তাঁর দখল নিয়ে কিছু বলাও যেন দুঃসাহস, কিন্তু সত্যিই তিনি অসাধারণ ছিলেন। এইটা বলা হয়তো আমার ধৃষ্টতা, দিদির থেকেও ও ক্লাসিক্যালটা ভাল গাইত।”
এই প্রয়াণকে উপমহাদেশের জন্য বিরাট ক্ষতি বলেই মনে করছেন অনুপম রায়। তাঁর কথায়, “এটা নিঃসন্দেহে এক অপূরণীয় ক্ষতি। আমাদের এই অঞ্চলে এমন প্রতিভা খুবই বিরল। তাঁর নামের সঙ্গে যে শব্দটা সবসময় জুড়ে যায়, তা হল ‘ভার্সেটাইলিটি’। তিনি আজ আমাদের মধ্যে নেই, কিন্তু তাঁর অসংখ্য সৃষ্টির মাধ্যমে তিনি চিরকাল আমাদের সঙ্গেই থাকবেন।”
অন্যদিকে, ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণায় আবেগঘন প্রতিক্রিয়া দেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “আশাজির সঙ্গে আমার এক আলাদা সম্পর্ক ছিল। তিনি বহু বাংলা গান গেয়েছেন, ছোটবেলা থেকেই শুনে বড় হয়েছি। আমার মায়ের কথা বিশেষভাবে মনে পড়ছে-তিনি ছিলেন আশাজির একনিষ্ঠ ভক্ত। আমার বিশ্বাস, তাঁর গাওয়া গান বিভিন্ন ভাষায় চিরকাল মানুষের মনে জায়গা করে নেবে।”


