কলকাতা: সরকার গেছে, এসেছে। কিন্তু সিঙ্গুর পরে আছে সিঙ্গুরেই (Singur)। বাম আমলে দেখা টাটার স্বপ্ন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমি আন্দোলনের ইতিহাস বহন করছে শিল্প, কৃষি কোনটাই না হওয়া বিস্তীর্ণ ৯৯৭ একর জমি। আরও একটা ভোট। আরও একপ্রস্থ প্রতিশ্রুতি। একসময় শিল্পায়নকে কেন্দ্র করে যে জমি আন্দোলন রাজ্য রাজনীতিকে তোলপাড় করেছিল, সেই সিঙ্গুরের ভবিষ্যৎ নিয়ে এবার নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে।
বামফ্রন্ট ও তৃণমূল কংগ্রেসের পর ওই এলাকার উন্নয়ন ও শিল্প সম্ভাবনা নিয়ে এবার স্বপ্ন দেখাচ্ছে বিজেপি। শুক্রবার নির্বাচনী ইস্তেহার (BJP Election Manifesto) ‘সংকল্প পত্র’-তে উল্লেখ করা হয়েছে সিঙ্গুরের (Singur)। সিঙ্গুরে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME) এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়ার কথা বলেন অমিত শাহ।
বিজেপির ইস্তেহারে বলা হয়, ক্ষমতায় এলে সিঙ্গুরে বিজনেস পার্ক তৈরি করবে বিজেপি। যার ৫০% জমি MSME-র জন্য বরাদ্দ করা হবে এবং ৫০ শতাংশ জমিতে শিল্পপতিদের লগ্নি করতে উৎসাহিত করা হবে। সিঙ্গুরের (Singur) পরিত্যক্ত জমি থেকে বিপুল পরিমাণ কর্মসংস্থান তৈরির প্রতিশ্রুতি দেন অমিত শাহ।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সিঙ্গুর শুধুমাত্র একটি ভৌগোলিক এলাকা নয়, বরং রাজ্যের শিল্পনীতি ও রাজনৈতিক আবেগের প্রতীক। ফলে এখানে যে কোনও নতুন উদ্যোগই সরাসরি রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। এখন দেখার, বাম ও তৃণমূলের দীর্ঘ শাসনের পর সিঙ্গুর নিয়ে বিজেপির ঘোষিত পরিকল্পনা (BJP Election Manifesto) বাস্তবে কতটা রূপ পায় এবং সেই ‘মাটি’ আবারও নতুন কোনও রাজনৈতিক অধ্যায়ের সাক্ষী হয় কিনা। তবে এই মাটিতে অতীতের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে বিজেপির পরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।


