30 C
Kolkata
Monday, April 13, 2026
spot_img

রবীন্দ্রসঙ্গীতের বদলে রবি শঙ্কর! বঙ্গের সুর বুঝতে গিয়ে তাল হারালেন শাহ ?

Aaj India Desk, বীরভূম : ভোটের উত্তাপ যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে বক্তব্যের সূক্ষ্ম ভুল নিয়ে রাজনৈতিক তরজা। সেই আবহেই বোলপুরের (Bolpur) সভায় একটি উচ্চারণ বিভ্রাট ঘিরে নতুন করে বিতর্কে জড়ালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। অন্যদিকে তা নিয়ে কটাক্ষে সরব তৃণমূল কংগ্রেসও।

রবীন্দ্রসঙ্গীত খুঁজতে গিয়ে ‘রবিশঙ্কর’!

এর আগেও বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একাধিক উচ্চারণ ভুল নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি একটি কর্মসূচিতে রানি রাসমণির নাম ভুলভাবে উচ্চারণ করার অভিযোগ ওঠে অমিত শাহের বিরুদ্ধে। এছাড়াও, অন্য নেতাদের ক্ষেত্রেও বাংলা নাম উচ্চারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এবার সোমবার বোলপুরের (Bolpur) সভা থেকে গায়িকা সহানা বাজপেয়ীকে ধন্যবাদ জানাতে গিয়ে ‘রবীন্দ্রসঙ্গীত’-এর পরিবর্তে ‘রবিশঙ্কর’ বলে ফেলেন অমিত শাহ। এই মন্তব্যের ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং তা নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।

কটাক্ষে নেমেছে তৃনমূল 

তৃণমূল কংগ্রেস তাদের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে বোলপুরের (Bolpur) ভিডিওটি শেয়ার করে কটাক্ষ করে। তাদের দাবি, পণ্ডিত রবিশঙ্কর একজন বিশিষ্ট সেতারবাদক, অন্যদিকে রবীন্দ্রসঙ্গীত বাঙালি সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দলটির অভিযোগ, বাংলার মানুষের মন জয় করতে গিয়ে এই দুই ভিন্ন বিষয়কে গুলিয়ে ফেলেছেন অমিত শাহ। তৃণমূলের বক্তব্য, “বাংলার সংস্কৃতি কোনও প্রচারের অংশ নয়। এই অপমান বাংলা মেনে নেবে না।”

এই ঘটনাকে সামনে রেখে তৃণমূল আবারও বিজেপির বিরুদ্ধে ‘বহিরাগত’ এবং ‘বাঙালি সংস্কৃতি সম্পর্কে অজ্ঞ’ হওয়ার অভিযোগ তুলেছে। তাদের দাবি, শুধুমাত্র ভোটের সময় বাংলায় এসে এই ধরনের মন্তব্য করা হচ্ছে, যা বাঙালি আবেগকে আঘাত করছে।

তথ্যগত ভুল নিয়ে বিরক্ত সাধারণ মানুষ 

নির্বাচনের আবহে এই ধরনের উচ্চারণ বা তথ্যগত ভুলকে বড় ইস্যু বানানো নিয়ে সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে স্পষ্ট বিরক্তি তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার বক্তব্যেই, বিশেষত তৃনমূলের একাংশের মুখে এমন ভুল বা বিতর্কিত মন্তব্য শোনা গেছে, তাই একে কেন্দ্র করে একতরফা আক্রমণ শানানোকে অনেকে রাজনৈতিক সুবিধাবাদ হিসেবেই দেখছেন। এই পরিস্থিতিতে মূল সমস্যা যেমন কর্মসংস্থান, উন্নয়ন, পরিকাঠামো বা জনজীবনের বাস্তব ইস্যুগুলি পিছনে পড়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠছে। ফলে ভোটের আগে এই ধরনের বিষয়কে কেন্দ্র করে চলা বাক্যযুদ্ধ নিয়ে ভোটারদের একাংশের মধ্যে অনীহা ও ক্লান্তি বাড়ছে, যা রাজনৈতিক দলগুলির প্রতি আস্থার উপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মত রাজনৈতিক মহলের।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন